গাজীপুর কালিয়াকৈর এলাকায় গ্যাসের আগুনে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন আরও ১০ জন। এর মধ্যেও পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গত ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিচালা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজের আগুন থেকে দগ্ধ হয়ে নারী-শিশুসহ ৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।
তারপর বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থা এই ১৬ জনের মৃত্যু হয়।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটের আবাসিক চিকিৎসক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালে ভর্তিদের মধ্যে আটজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকি ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০ জন, তার মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আশঙ্কাজনক রোগীদের সম্পর্কে মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বার্ন ইনিস্টিউটে ভর্তি মো. নাঈমের (১২) শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া আব্দুল কুদ্দুসের (৪৫) ৮০ শতাংশ, নিরবের (৭) ৩২ শতাংশ, কবিরের (৩০) ৪৫ শতাংশ ও মান্নাফের (১৮) ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
বাকি যে পাঁচজন তুলনামূলক ভালো অবস্থায় রয়েছেন তাদের মধ্যে সুমনের (২৫) ২৫ শতাংশ, শিল্পীর (৪০) ২৫ শতাংশ, নিলয়ের (৩) ৮ শতাংশ, তারেক রহমানের (১৭) ২০ শতাংশ ও রাহিমার (৩) ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর দুইজনকে আগেই ছেড়ে দিয়েছিলো চিকিৎসকরা। নতুন করে যে ছয়জন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তারা হলেন, আজিজুল (২৪), শারমিন (১২), রত্না (৪০), রামিছা (৩৬), সাদিয়া খাতুন (১৮) ও সুফিয়া (৮)।
এদিকে রোববার বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে যে ১৬ জন মারা গেছেন তারা হলেন, সোলেমান মোল্লাহ (৪৫), মুনসুর (৪৫), তৈয়বা (৩) তার ভাই তাওহিদ (৭), মো. আরিফ (৪০), মহিদুল (২৫), মোসা. নার্গিস (২৫), জহিরুল ইসলাম কুটি (৪০), মোতালেব (৪০), মো. সোলাইমান (৯), গোলাম রাব্বি (১৩), ইয়াসিন আরাফাত (২১), মশিউর রহমান (২২), কমলা খাতুন (৬৫), নাদিম (২২) ও লালন (২৪)।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, তেলিরচালা টপস্টার কারখানার পাশে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী শ্রমিক কলোনি তৈরি করে ভাড়া দিয়েছেন। তার বাড়িতে থাকা সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে গেলে পাশের দোকান থেকে নতুন গ্যাস সিলিন্ডার কিনে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে সেটি লাগানোর সময় সিলিন্ডারের চাবি খুলে গিয়ে পাশের চুলা থেকে আগুন ধরে যায়। তখন তিনি গ্যাস সিলিন্ডারটি ছুড়ে মারেন বাইরে। এ সময়ে বিস্ফোরণে আশপাশে থাকা শিশু, নারী ও পথচারীর শরীরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৩৪ জন দগ্ধ হন।
দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে কোনাবাড়ী এলাকার কয়েকটি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাদের ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।