শুধুমাত্র বাহবা পেতেই বিএনপি ভারতীয় পণ্য বর্জনের কথা বলছে বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে তিনি এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
আব্দুল মোমেন বলেন, ভারতীয় পণ্য বয়কট কেবলই একটি পলিটিক্যাল স্টান্ট। এর অংশ হিসেবে ইদানীং সময়ে ভারতীয় পণ্য বয়কটের প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তাতে বিএনপিও সায় দিচ্ছে। কিন্তু ভারতীয় পণ্য বয়কট কেবলই একটি পলিটিক্যাল স্ট্যান্ট। এ ধরনের পরিকল্পনা হবে আত্মঘাতী।
এছাড়া, সোমালিয়ায় অপহরণ হওয়া নাবিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জানতে চেয়েছি নাবিকদের অবস্থা কেমন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে। সোমালিয়ার ব্যাপারে বিস্তারিত আলাপ হয়নি, কিন্তু উনি বলেছেন আলোচনা ইতিবাচক।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে নির্বাচনের আগে অনেকটা অগ্রগতি হলেও নানা কারণে থেমে যায়। সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে কমিটির বৈঠকে জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে। সংসদীয় কমিটিও এ বিষয়ে কাজ করছে। তাদের জীবনমানসহ ওই অঞ্চলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখার জন্য দ্রুতই কক্সবাজার যাবে সংসদীয় কমিটি। সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক সেখানে হওয়ার কথা থাকলেও সেটা সম্ভব হয়নি।
প্রবাসে জেলে থাকা বাংলাদেশিদের তথ্যের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বহু দেশে বাংলাদেশিরা জেলে আটক আছে। তারা মাসের পর মাস জেলে আটক রয়েছে। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছি কোন কোন দেশে কতজন প্রবাসী জেলে আটক আছে তার হিসাব নেন এবং সেগুলো আমাদের দেবেন।
মোমেন বলেন, গত নির্বাচনের আগে মানবাধিকার ইস্যুতে খুব হইচই হতে দেখেছি। আগামীতেও হয়ত এসব ইস্যুতে হইচইয়ের সম্ভাবনা আছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট উইং করার প্রয়োজন আছে কিনা সেটি যাচাই বাছাইয়ের প্রস্তাব দিয়েছি। উনারা যাচাই বাছাই করে সেটি জানাবেন।
তিনি বলেন, আমাদের মিশনগুলোয় বিভিন্ন উইং রয়েছে- যেমন লেবার উইং, ট্রেড উইং, ইকোনমিক উইং। কিন্তু তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আগামীতে যারা বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যাবেন আমরা তাদের শুনানির ব্যবস্থা করব। গণ শুনানি হলে জবাবদিহি বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী চান জবাবদিহির সরকার।