ট্রেন আসা-যাওয়ার কোনো খবর পায় না লাইনম্যান। রেল লাইনের দিকে তাকিয়ে থেকে ট্রেন দেখে তারপর সড়ক বন্ধ করতে হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য গত ১৫ দিন ধরে রাজধানীর এফডিসি ও মগবাজার সিগনাল এভাবেই চলছে। ট্রেন আসার সঠিক খবর না পাওয়ায় সড়কের গাড়িও বন্ধ করতে হয় অনেক আগে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর দিকে কোনো নজর নেই কর্মকর্তাদের।
সরেজমিন, মগবাজার সিগনালে দেখা গেছে- রেল লাইনের দিকে অপলক চেয়ে আছেন লাইনম্যান। আর এই চেয়ে থাকা এক বা দুই ঘণ্টার জন্য নয়, টানা আট ঘণ্টা। অর্থাৎ ডিউটির পুরোটা সময় এভাবেই চেয়ে থাকতে হচ্ছে কখন ট্রেন আসছে। ট্রেন চোখের সীমানায় আসার পর দ্রুতই সড়কের গাড়ি বন্ধ করতে হবে।
টেলিফোন লাইন, সতর্কতার ঘণ্টা সবই নষ্ট। কারওয়ার বাজারে সনাতন পদ্ধতিতে একটি সিগনাল দেয়া যাচ্ছে তা নিয়েও জটিলতার শেষ নেই।
এদিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের কারণে প্রায়ই টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে দাবি রেলওয়ের। কিন্তু বড় ধরনের ঝুঁকি থাকার পরও লাইন সচল করার কোনো উদ্যোগ নেই তাদের।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামান বলেন, দীর্ঘ দিনেও রেল পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারেনি রেলওয়ে। সেই সঙ্গে নিজস্ব কোনো প্রযুক্তি বিভাগই নেই গণপরিহনের সবচেয়ে বড় সেবা খাতটির।
তিনি বলেন, এতো বড় একটা সেক্টর, এতে বিনিয়োগ! কিন্তু সেখানে আইসিটি ডিভিশন নেই। ট্রেনের টিকেট বিক্রির জন্য আমাদের ঠিকাদারদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমাদের লেভেল ক্রসিংগুলোর আধুনিকায়ন করা দরকার। এখন ইন্টারলক সিস্টেম চলে এসেছে। সেখানে লেভেল ক্রসিং, পয়েন্টস অ্যান্ড ক্রসিং এবং স্টেশন সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালানো সম্ভব। এখানে হিউম্যান এরর বা মানুষের যে ভুল সেটা শূন্যতে নামানো সম্ভব।
রেলের ভাড়া না বাড়িয়ে বরং কীভাবে আয় বাড়ানো সম্ভব তাও তুলে ধরেন এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ।
বলেন, অনেকগুলো খাত আছে। পণ্য পরিবহনে তাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি রেলের যে জমিগুলো আছে তা উদ্ধার করে সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম করে তা থেকে আয় নিয়ে এসে রেলের যে ভাড়ার স্ট্রাকচার আছে সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। তাই আমি মনে করি, এই ভাড়া আরও কমানো সম্ভব।
রেলকে সাবসিটি নিতে হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, রেলের যে পরিমাণ জমি আছে, এই অমিত সম্ভবনা কাজে লাগাতে হবে।
রেল পরিচলানার জন্য সবার আগে দরকার দুর্নীতিন বন্ধ করা ও দক্ষ জনবল তৈরা করা বলেও মন্তব্য করেন এই বিশেষজ্ঞ।