দিনের বেলা গ্যাস থাকে না জুরাইনে। তিন বেলার খাবার রান্না হয় রাত বারোটার পর। ময়লা আর পোকার কারণে খাওয়া যায় না ওয়াসার পানি, গোসল করলে হয় চর্ম রোগ। তাই দূর থেকে বয়ে আনা কেনা পানি দিয়ে করতে হয় দিনযাপন।
এ যেনো জুরাইন এলাকার মানুষের নিত্যদিনের লড়াই। তীব্র জলাবদ্ধতা ছাড়াও এই দুটি সঙ্কটে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ আছেন জুরাইনের কয়েকটি এলাকার মানুষ।
এলাকাবাসীর দাবি, বারবার ধর্না দিয়েও এসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
জুরাইনের মুরাদপুরের তিন সন্তানের জননী রিপা বেগমের সংসারে খাবার রান্না হয় সাতজনের। এলাকায় সাংবাদিক তাদের খবর নিতে এসেছে শুনে নিয়ে গেলেন নিজের রান্নাঘরে। বারবার চেষ্টা করে দেখালেন দিনের বেলায় জ্বলে না তাদের চুলা।
বললেন, গ্যাস থাকে না। কেউ খেতে পারে, কেউ পারে না।
তার মতো একই পরিস্থিতি মুরাদপুরের বেশিরভাগ বাড়ির। সংসারে সবার খাবার প্রস্তুত করতে রাত জেগে রান্না করতে করতে অনেকের শরীরে বাসা বাঁধছে জটিল রোগ।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১২টা থেকে দুইটার দিকে গ্যাস আসলেও তা আবার সকালের আগেই চলে যায়।
শুধু তাই নয় জুরাইনের পোকার বাজারসহ অনেক এলাকায় রয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। ওয়াসার পানি খেতে না পেরে দূর-দূরান্ত থেকে পানি কিনে এনে চলছে তাদের জীবন।
এলাকাবাসীর দাবি, বেশির ভাগ বাড়িতে ওয়াসার যে পানি আসে তাতে বড় বড় পোকায় ভরা, উপায় না থাকায় যারা এই পানি ব্যবহার করছেন তারা আক্রান্ত হচ্ছেন চুলকানিসহ নানা পানিবাহিত রোগে।
এলাকার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর খালেদা আলমের দাবি বারবার তাগিদ দিয়েও সড়কের জলাবদ্ধতার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায় না। আর গ্যাস পানির সংকট সমাধানে আন্তরিক নয় তিতাস আর ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, সারাবছরের স্থানীয়রা নারীরা অনেক ধরনের অভিযোগ করেন। কিন্তু আমরা বার বার সংশ্লিষ্টদের জানালেও তারা কোনো ভ্রুক্ষেপই করেন না।
পানির সংকট সমাধানে জুরাইনে কম জল ঘোলা হয়নি, ক’দিন আগেও পানির সংকট সমাধানে অনশন করেছেন এলাকাবাসী। তবু কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ।