ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না রাজধানীর জুরাইনবাসীর। বছরজুড়ে জলাবদ্ধতা আর খাবার পানির সঙ্কটের পাশাপাশি বিপাকে ফেলছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা। জলাবদ্ধতার কারণে গেলো বছর ডেঙ্গুর অন্যতম হটস্পট ছিলো জুরাইন। মারাও গেছেন কয়েকজন। এতো ভোগান্তি ও প্রাণহানির পরেও এই এলাকা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো বিকার নেই। আর এটাই বিক্ষুব্ধ করে তুলছে স্থানীয়দের।
বছরের বেশিরভাগ সময় পানির দখলে থাকা জুরাইনের আলমবাগ এলাকায় কাউন্সিলর আর নতুন সংসদ সদস্যকে সামনে পেয়ে ক্ষোভ সামলাতেন পারলেন না স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক নারীর পাশাপাশি কাউন্সিলরের কাছে অভিযোগ করলেন আরও বেশ কয়েকজন। তাদের দাবি, এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসছে না।

অভিযোগ শোনার পর এবছরও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আগামী বর্ষার আগে ড্রেন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মাসুদ। পাশাপাশি তিনি দায় দিলেন প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের।
কাউন্সিলর মাসুদ বলেন, আমি আরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমার ওয়ার্ডকে আমি জলাবদ্ধমুক্ত করতে চাই। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে অনেক বেশি চেষ্টা চালাবো এবার।
শুধু আলমবাগ নয় জুরাইনের অধিকাংশ সড়কই পানির নিচে। মুরাদনগরের অনেক সড়ক তলিয়ে আছে বছরের পর বছর। কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।

এলাকাবাসীর দাবি, ভোটের আগে নানান প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর জনপ্রতিনিধিদের দেখা মেলে না। মুরাদনগরে জলাবদ্ধতার কারণে একমাত্র সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ পানিতে পা স্পর্শ করলে- পায়ে চুলকানিসহ নানান ধরনের সমস্যা হয়।

ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আওলাদ হোসেনের দাবি আগের জনপ্রতিনিধিরা মানুষের জন্য কাজ করেনি। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে দুর্ভোগ কামানোর আশ্বাস তার।
তিনি বলেন, যেখানে পানি আটকে আছে- সেখানে পাম্প বসিয়ে হলেও আমরা পানি নিষ্কাশন করাবো। যেসব বাড়িতে পানি জমে আছে, তাও পরিষ্কার করানো হবে।
কেবল প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস নয় জুরাইনের মানুষ চায় ভোগান্তি থেকে মুক্তি।
খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তি উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরে