রাজধানীর বুকে জুরাইন যেনো এক বিচ্ছিন্ন জনপদ। সড়কে খানাখন্দ-জলাবদ্ধতা। সুপেয় পানির অভাব, গ্যাস সংকট। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থাও। নাগরিক জীবনে এমন কোনো সংকট নেই যা জুরাইনে নেই।
ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার ফলে, বাসা বাড়ির ব্যবহৃত পানিতেই ডুবে যায় রাস্তাঘাট। আর বৃষ্টি হলতো কথাই নেই। সড়ক পরিণত হয় পুকুরে! এমন বহুমাত্রিক সংকটের সাথেই বসবাস জুরাইনের বাইপাস সড়কসহ আশপাশের লাখো মানুষের।
সরেজমিনে দেখা যায়, থৈ থৈ পানিতে ভাসছে উত্তর জুরাইনের মুন্সিবাড়ি পাইপ রাস্তা এলাকা। স্থানীয়রা বলছেন এই রাস্তা নাকি কখনই শুকায় না। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কোমর পানি। সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে আছে বহু বছর। কিন্তু সমাধানের কোন উদ্যোগ নেই।
রিকশা ছাড়া এই সড়কে চলাচল করা যায় না। আবার এবড়োখেবড়ো সড়কে পানি জমে থাকায় প্রতিদিনই রিকশা উল্টে কেউ না কেউ পড়ছে দুর্ঘটনায়।
পাশের এলাকা গেন্ডারিয়া শ্যামপুরবাসীর দাবি, দয়াগঞ্জ থেকে উত্তর জুরাইন হয়ে পোস্তগোলা যাওয়ার একমাত্র বাইপাস সড়কটিও দীর্ঘদিন বেহাল। বছর খানিক আগে সড়ক সংস্কারের নামে খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে। তারপর কাজ শেষ না করেই ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত দেড় বছর ধরে একই অবস্থা সড়কের। অনেক সময়ই গাড়ি চলতে গিয়ে উল্টে যায়। রিকশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে।
নির্মাণ হচ্ছে গেন্ডারিয়া রেল স্টেশন। সেটিকে কেন্দ্র করে পাশে যে দেয়াল দেয়া হয়েছে তাতেও মানুষের দুর্ভোগ আছে। উত্তর জুরাইন থেকে আদদ্বীন হাসপাতাল বা জুরাইন কবরস্থান যেতে ঘুরতে হয় বহুপথ ঘুরে।
এসব সংকটের কোনোটাই অজানা নয় জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু ভোট যায় ভোট আসে। বছরের পর বছর কেবল প্রতিশ্রুতিই শুনে যান জুরাইনবাসী।