দুদকের তলবে বেনজীর কি আসবেন, না এলে?

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলবে হাজির না হলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারাবেন সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ। সেক্ষেত্রে তার কোনো বক্তব্য নেই বলেই ধরে নেবে দুদক। সংস্থাটির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বলছেন, বেনজীর হাজির হতে পারেন, নাও পারেন, আবার সময়ে চেয়ে আবেদনও করতে পারে। তবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং এর অভিযোগে মামলা করা যাবে। 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক সময় নিজেই কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ। এখন তার বিরুদ্ধেই প্রকাশ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের তথ্য। যা একজন সরকারি কর্মকর্তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। 

গেলো ২৩ মে বেনজীরের ৮৩টি দলিল জব্দ ও ৩৩টি ব্যাংক একাউন্টের লেনদেন জব্দের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে ২৬ মে স্ত্রীর নামে ১১৯টি দলিল ও গুলশানে একদিনেই কেনা চারটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ আসে। ফ্রিজ করা হয় ২৩টি কোম্পানির শেয়ার। এসব সম্পদের উৎস জানতে ছয় জুন তাকে তলব করে দুদক।

কিন্তু এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমের খবর, দুদকের অুনসন্ধান শুরুর আগেই দেশ ছেড়েছেন বেনজীর। তাই তিনি দুদকের তলবে হাজির হবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। 

দুদক কমিশনার জহুরুল হক বলেন, হাজির না হলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারাবেন বেনজির। ধরে নেয়া হবে তার কোনো বক্তব্য নেই।

তিনি বলেন, আমরা তাকে নোটিশ করেছি। তিনি সময় চাইতে পারেন, নাও চাইতে পারেন, দুদকে আসতে পারেন, আবার নাও আসতে পারেন। না আসলে ধরে নিতে হবে তার কোনো বক্তব্য নাই।  

সংস্থাটি সাবেক মহাপরিচালক মইদুল ইসলাম বলেন, এর আগে দুদকের তলবে হাজির হননি সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ও অর্থ লোপাটকারী পিকে হালদার। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। 

তিনি বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং এর অভিযোগের যে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে তা মামলা করার জন্য যথেষ্ট। অনুসন্ধানে যেহেতু অনেক কিছুই বের হয়েছে, তাই তদন্তে বেশি সময় লাগার কথা নয়। 

অভিযোগ প্রমাণিত হলে কেমন সাজা হতে পারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং মানিলন্ডারিংয়ের ক্ষেত্রে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান আছে। তার সঙ্গে বাজেয়াপ্তসহ সর্বনিম্ন ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধানও আছে।

এখন দেখার অপেক্ষা, ছয় জুন বেনজীর দুদকে হাজির হন, নাকি সময় প্রার্থনা করেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঢাকা, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ও কক্সবাজারে একাধিক ফ্ল্যাট, রিসোর্ট, বাংলা বাড়ি ও জমিসহ বিপুল সম্পদের মালিক, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। তার এসব সম্পদের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে আমলে নেয় হাইকোর্ট। দুই মাসের মধ্যে বেনজীর আহমেদের সব সম্পদের হিসাব দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছিলো আদালত।

সেই নির্দেশের পর ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দুদক। পরে কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেয় ঢাকা মহানগর আদালত।

তবে গণমাধ্যমে বেনজীরের সম্পদ নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে সেগুলোকে ‘অসত্য’ বলে দাবি করেছেন সাবেক এই র‌্যাব ও পুলিশপ্রধান। 

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ৩৭তম পুলিশপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন।