ডেঙ্গুর মৌসুম এলেই মশা মারার ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে ঢাকার নগর প্রশাসন বলছে, বর্তমানে মশা মারতে যে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি অত্যন্ত কার্যকর।
কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই ওষুধ নির্বাচন করা হয়েছে। মজুদ থাকা ম্যালাথিওন ও টেমিফস নামের দুটি ওষুধ দিয়েই এবার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। তবে এডিস নিধনে শিগগিরি জৈব কীটনাশক বিটিআই যুক্ত করতে যাচ্ছে উত্তর সিটি কর্পোরেশন।
মশার লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশা দমনে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনই ম্যালাথিয়ন ও টেমিফস নামের দুটি ওষুধ ব্যবহার করে। যদিও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
দুই সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ওষুধ দুটি যথেষ্ট কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের অনুমোদন নিয়ে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন একই ওষুধ ব্যবহারের কারণে মশারা যাতে ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে না ওঠে সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
ডেঙ্গু এবার আরও বিধ্বংসী হবার শঙ্কা যখন সামনে তখন কর্তৃপক্ষ কি এবার ওষুধ পরিবর্তন করছে? দক্ষিণের স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আপাতত তারা ম্যালাথিয়ন ও টেমিফসেই ভরসা রাখছে।
ঢাকা দক্ষিণের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ ফজলে শামসুল কবীর বলেন, আজ পর্যন্ত কোন কিটনাশকের পরীক্ষার ফলাফল শতকরা ভাগের নিচে আসেনি। তার মানে আমরা শতভাগ কার্যকারী কীটনাশক ব্যবহার করছি। আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি কিছু কিছু মহল অবাঞ্ছিতভাবে এগুলো নিয়ে বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে। হয়ত এটার সাথে তাদের কোনো ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে।
গত বছর বিটিআই নামের একটি জৈব ওষুধ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় ডিএনসিসি। লার্ভা ধ্বংসকারী এই ওষুধের সুফল পেয়েছে অনেক দেশ। কিন্তু এদেশে আমদানির আগেই অনিয়ম ধরা পড়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে বিটিআই ব্যবহারের পরিকল্পনা। উত্তরের স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে এবার ডেঙ্গু শুরুর আগেই বিটিআইয়ের চালান দেশে আসছে।
ঢাকা উত্তরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগে: জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, বিটিআই ছাড়া আমরা অন্য যে লার্ভিসাইট ব্যবহার করছি, আমরা সন্তুষ্ট। আমাদের কাছে যে হালনাগাদ তথ্যগুলো আছে, সেখানে কোথায় লেখা নেই এই ওষুধগুলো অকার্যকর হয়ে গেছে। তবে বিটিআই আসার পর মশা নিধনে নতুনমাত্রা যোগ করবে।
মশার ওষুধ ছিটানোর লোকবলেও আপাতত ঘাটতি নেই। তবে সঠিক নিয়মে সঠিক জায়গায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।