শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দুর্বৃত্তের আগুনে দুই মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর চুয়াডাঙ্গা ও বরগুনায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে তাদের মৃত্যু হয়। এর আগে পাঁচ আগস্ট তারা দগ্ধ হন।

তারা হলেন- চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (৩০)। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। 

অপরজন হলেন- যশোরের চৌগাছা উপজেলার আফরা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আল-আমিন (২৭)। তিনি পেশায় একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন। আহত হওয়ার সময় তিনি বরগুনার আমতলীতে কর্মরত ছিলেন।

উজ্জ্বলের স্ত্রী শিলু আক্তার জানান, স্বামী পাঁচ আগস্ট সন্ধ্যায় কাজ থেকে বাসায় আসেন। পরে মুক্তারপুর মোল্লাবাজারে চা পান করতে যান। শেখ হাসিনার পদত্যাগের ওই দিন বাজারের একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে আগুন দেওয়া হয়। এসময় ওই দোকানে বসে ছিলেন উজ্জ্বলসহ এলাকার বেশ কিছু লোকজন। আগুন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এতে উজ্জ্বলসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত ও দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢামেকের পুরাতন বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। শরীরের ৬৬ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে তিনি ভোর সাড়ে ছয়টায় মারা যান।

এদিকে আল-আমিনের খালাতো ভাই আবু সাঈদ জানান, বরগুনার আমতলীতে রেনেটা ফার্মাসিটিক্যালসে বিক্রয় প্রতিনিধির চাকরি করতেন আল-আমিন। থাকতেন আমতলীতে। গত পাঁচ আগস্ট কাজ শেষে তিনি সেখানকার বাসার দ্বিতীয় তলায় ঘুমিয়ে ছিলেন। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাসার নিচ তলায় আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তর। আগুন ওই ভবনে ছড়িয়ে পড়লে ঘুমিয়ে থাকা আল-আমিনসহ তার কয়েকজন সহকর্মী দগ্ধ হয়। সেখান থেকে তারা দগ্ধ অবস্থায় দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে রাস্তায় পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়  বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যালে নিয়ে যান। পরদিন ছয় আগস্ট তাকে ঢাকায় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের ৩৬ শতাংশ দগ্ধ ছিল। শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় আইসিইউতে তিনি মারা যান।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহ দুটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।