ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ১০ ঘণ্টার সফল অপারেশনের পর পেটে ও বুকে জোড়া লাগানো শিফা ও রিফাকে আলাদা করা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ঢামেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা.শাহানূর ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর বয়সী শিফা ও রিফার অস্ত্রপচার হলেও ভালো নেই রিফা। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ায় রিফাকে পিআইসিইউতে রাখা হয়েছে ও শিফা মায়ের কোলে ভালই আছে।
এই অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন বিভাগের ৮২ জন চিকিৎসক।
ঢামেক হাসপাতালে কনফারেন্স রুমে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে শিফা-রিফা থেকে শিফা ও রিফা পৃথকীকরণ সফলতার পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার গার্মেন্টসকর্মী বাদশা মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা বেগম গত বছরের ৭ জুন মুরপুরের স্থানীয় এক হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জোড়া দুই শিশুর লাগানো জন্ম দেন। এ বছরের ১৪ জুন দুই শিশুকে ঢামেকের শিশু সার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ডা: সাহানুর ইসলাম এর নিকট নিয়ে আসেন তার বাবা-মা।
সেই সময়ে শিশুদের চিকিৎসার জন্য একটি বোর্ড গঠন করেন অধ্যাপক ডা: সাহানুর ইসলাম। তখন থেকে শুরু হয় তাদের চিকিৎসা কার্যক্রমের বিভিন্ন পরীক্ষা। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শ মোতাবেক তাদের বাসায় রেখে চিকিৎসা চলতে থাকে। মাঝে মধ্যে ফলোআপে হতে থাকে।
এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ১০ ঘন্টাব্যাপী সফল পৃথকীকরণ অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। অপারেশন শেষে তাদের আইসিইউতে (ভেন্টিলেটরে) রাখা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর রিফাকে ভেন্টিলেটর থেকে মুক্ত করা হয়। একদিন পর ৯ সেপ্টেম্বর শিফাকে ভেন্টিলেটর মুক্ত করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর শিফা কার্ডিয়াক এরেস্ট হয়। পরে তাকে ন্যাশনাল হার্ড ফাউন্ডেশনের প্রধান শিশু কার্ডিয়াক সার্জন অধ্যাপক আরিফুজ্জামানের অধিনে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখান থেকে শিফা ফেরত আসে ১৮ সেপ্টেম্বর। সেই থেকে শিফা ঢামেকের আইসিইতে রয়েছে। রিফা পুরোপুরি সুস্থ আছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন শিফার রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়েছে হয়েছে। পুরোপুরি সেরে উঠতে তার কিছু সময় লাগবে। তবে আইসিইউতে থেকে আজকালের মধ্যে তাকেও কেবিনে দিয়ে দেয়া হবে।
এ অপারেশন করতে আর্থিক সহযোগীতা করেছে আকিজ গ্রুপ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের সকলে সহযোগিতায় সম্পন্ন করা হয় এই অপারেশন।
শিফা-রিফার বাবা গার্মেন্টসকর্মী বাদশা মিয়া বলেন, আমি নিতান্ত গরীব মানুষ, আমার পক্ষে এ চিকিৎসা করানো সম্ভব হতো না। চিকিৎসক স্যারেরা আমার শিশুদের জন্য যা যা প্রয়োজন সবই করেছেন। তারা অনেক কষ্ট করেছেন। আমার সন্তানদের চিকিৎসার জন্য সকল খরচও দিয়েছেন তারা। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
ঢামেকের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান বলেন, আপনারা জানেন জুলাই থেকে আমরা একটি যুদ্ধের মধ্যে ছিলাম। এর মধ্যেও এতো বড় একটি সফলতা অর্জন করেছেন চিকিৎসকেরা। অধ্যাপক ডা: সাহনুরের নেতৃত্বাধীন পুরো টিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ঐ সময়ে তারা আমার সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করেছেন। আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব আমি সহযোগীতা করেছি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান, সহকারী পরিচালক আশরাফুল আলম, কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা : কামরুল আলম, বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।