সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ চায় বিএনপি

রাষ্ট্র মেরামতে সংস্কার চাইলেও, তার জন্য অনির্বাচিত সরকারকে দীর্ঘ সময় দিতে চায় না বিএনপি। দলটির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে নির্বাচিত সরকারের বিকল্প নেই, তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুতই নির্বাচনী সড়কে উঠতে হবে অন্তবর্তী সরকারকে। নির্বাচন অনুষ্ঠনে দেরি হলে, শিক্ষার্থী জনতার অভ্যুত্থান ব্যর্থ হতে পারে বলেও আশঙ্কা জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ হলো। এরই মধ্যে নতুন সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনসহ গুরুত্ব দিচ্ছে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক খাত সংস্কারের।

সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত কমিশনগুলো কাজ শুরুর আগে গত শনিবার তৃতীয় দফায় বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে বসে অন্তর্বর্তী সরকার।

2

শুরু থেকেই এই সরকারকে সহযোগিতার কথা বলে আসছে বিএনপি। সেই সাথে যৌক্তিক সময়ে নির্বাচনের দাবিও আছে দলটির। সম্প্রতি জোড়েশোরে নির্বাচনের কথা বলছে তিন দফায় ক্ষমতায় থাকা দলটি। তৃতীয় দফা সংলাপে নির্বাচনের বিষয়ে কতটা আশ্বাস মিলল- এমন প্রশ্ন ছিলো দলটির নীতি নির্ধারকদের কাছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তবর্তী সরকারের কাছে এখন অগ্রাধিকার হচ্ছে সংস্কার, নির্বাচন নয়। তবে সংস্কার বলতে যত সোজা, ততোটাই কঠিন, খুবই। তাই আমরা অপেক্ষায় আছি, তারা (অন্তবর্তী সরকার) কতটা সংস্কার করতে পারে।

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নতুন বাংলাদেশে নতুন পরিবর্তনের অগ্রাধিকার সবার কাছেই কাম্য। এবং সেটি হবে। কিন্তু দিন শেষে তো বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

3

রাষ্ট্র ও শাসন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে অন্তবর্তী সরকার যে সংস্কারের কথা বলছে তা নির্বাচিত সরকারের করা উচিত বলে মনে করেন বিএনপির এই দুই জেষ্ঠ নেতা। তারা বলছেন, দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, নির্বাচনের রোডম্যাপ এখন বিএনপির প্রধান দাবি । তার আগে সব স্তর থেকে বিগত সরকারের সুবিধাভোগীদের অপসারণও চান দলটির নীতি নির্ধারকরা।