আজও গুলশানে সড়ক আটকে তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের অবস্থান

শুক্রবারের মতো আজও গুলশান-১ আটকে সড়কে অবস্থান নিয়েছে তিতুমীর কলেজের ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ দাবি করা শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর ব্যস্ততম গুলশানের ওই সড়কে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের ফলে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিস শেষ করা ঘরমুখো মানুষ। সড়কের দু’পাশজুড়ে লম্বা জটের তৈরি হয়েছে।

গতকালও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা একই সড়ক বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে গিয়ে তারা তাদের দাবি মেনে না নেয়া হলে ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সব সড়ক ও রেলপথ অবরোধের আল্টিমেটাম দেয়।

আল্টিমেটাম দিয়েও কাজ না হওয়ায় শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার পর তারা মহাখালী কলেজের সামনের আমতলী সড়কে অবস্থান নেন। এবার এগিয়ে গিয়ে গুলশান সড়ক অবস্থান নিলেন তারা।

গত শুক্রবার সকালে ঘোষণা দেওয়া হয়, অনশনরত শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকে জুমার নামাজ আদায় করবেন। পরে প্রায় দেড়শ’ শিক্ষার্থী একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন।

titumir1

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে সরকারের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিপ্রা রানী মণ্ডলসহ কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা।

মো. নুরুজ্জামান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তারপরও শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি স্থগিতে রাজি হননি। তারা তিতুমীর কলেজকে ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়’ করার তাৎক্ষণিক ঘোষণা দেওয়ার দাবি করেন।

দীর্ঘ সময় পর এক পর্যায়ে যুগ্ম সচিব নুরুজ্জামান বলেন, ‘তোমাদের দাবি যে অযৌক্তিক– সেটা তো কেউ বলছেন না। কিন্তু এটি একটি প্রক্রিয়াধীন বিষয়। তোমরা ২৮ বছর ধরে আন্দোলন করছো। এটা তোমরা আদায় করেই ঘরে ফিরবা, সেটাও আমরা জানি।’

তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবি হলো: 

  • তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।
  • তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠন করে ২০২৪-২০২৫ সেশনের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
  • শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ নতুবা অনতিবিলম্বে শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসিক খরচ বহন করতে হবে।
  • ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ন্যূনতম দুইটি বিষয় ‘আইন’ এবং ‘জার্নালিজম’ বিষয় সংযোজন করতে হবে।
  • একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন পিএইচডিধারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
  • শিক্ষার গুণগতমান শতভাগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন সংখ্যা সীমিত করতে হবে।
  • আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার বিনির্মাণের লক্ষ্যে জমি ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ করতে হবে।