শাওন ও তার বাবাসহ ১০ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

হত্যাচেষ্টার মামলায় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং তার বাবাসহ ১০ ব্যক্তির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম ছানাউল্ল্যাহ এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পারভেজ আহমেদ একথা নিশ্চিত করেছেন।

বাদীপক্ষ থেকে এদিন এই মামলার পলাতক আসামি শাওনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে আদালত তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই মামলায় গত ২৩ এপ্রিল শাওনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।

অন্য যাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন, শাওনের বাবা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, ভাই মাহিন আফরোজ, বোন সেঁজুতি ও তাঁর স্বামী সাব্বির, শাওনের বাবার বোনের ছেলে মোখলেছুর রহমান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ, সিটিটিসি ইউনিটের সাবেক এডিসি নাজমুল ইসলাম, সিটিজেন কেব্‌লসের মহাব্যবস্থাপক সুব্রত দাস ও হিসাব বিভাগের প্রধান মাইনুল হোসেন।

এর মধ্যে সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও শাহ আলম জামিনে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গত ২২ এপ্রিল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পারভেজ সুমন জানান, এদিন মামলার তারিখ ধার্য ছিল। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আসামিরা যেন দেশের বাইরে যেতে না পারেন সেজন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। এছাড়া আগামী ১ জুলাই মামলার পরবর্তী তারিখ ঠিক করা হয়েছে।

গত ১৩ মার্চ হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে ১২ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন শাওনের সৎ মা নিশি ইসলাম।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পূর্বের স্ত্রীর কথা গোপন রেখে প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে নিশি ইসলামকে বিয়ে করেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী। পরবর্তীতে তিনি বিয়ের কথা জানতে পারেন। মোহাম্মদ আলীর আগের একটি পুত্র ও তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে। 

বিয়ের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি প্রথম বিয়ে সম্পর্কে জানাতে বিভিন্ন রকমের ছলনা ও প্রতারণার আশ্রয় নেন। এক পর্যায়ে সব প্রতারণার কথা স্বীকার করেন।