শাহজালালের কার্গো ভিলেজের আগুনের কারণে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ বিমানবন্দর সড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগার পর থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এত যানজটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বিদেশগামী যাত্রীরা। এমনিতেই এই ব্যস্ততম সড়কে দিন-রাত যানজট লেগেই থাকে। সেখানে বিমানবন্দরের পরিস্থিতির কারণে এই যানজট আরও তীব্র হয়েছে।
শনিবার দুপুরে আগুন লাগার পর থেকে বনানীর কাকলি থেকে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কার্যালয় পর্যন্ত পুরো সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সড়কে আটকে পড়া অনেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হেঁটে রওনা দিয়েছেন। বিশেষ করে বিদেশগামী যাত্রীরা পড়েছেন সবচেয়ে বড় বিপাকে।
বিমানবন্দরের দুটি প্রবেশ গেট বন্ধ থাকায় কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। এতে সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছানো নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা জানাচ্ছেন, সাধারণত ১৫-২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। ফলে বিমানযাত্রী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে সড়কে গাড়ির জট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম হাসিবুর রহমান বাবু। তিনি জানান, বিমানবন্দরে আগুন লাগার কারণে এই সড়কে গাড়ির জট তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিমানবন্দর এলাকায় গাড়িগুলোকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
কারণ, অনেকের সঙ্গেই চারজন-পাঁচজন করে মানুষ আসে। তাদের আপাতত প্রধান সড়কে নামতে হচ্ছে ও মালামাল নামাতে হচ্ছে। ফলে সড়কে একটু গাড়ির চাপ রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের ট্রাফিক অ্যালার্ট গ্রুপ ঘুরে দেখা গেছে, ওই পথে চলমান থাকা একাধিক যাত্রী বিভিন্ন ছবি পোস্ট করে যানজটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, কার্গো ভিলেজে লাগা আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে সন্ধ্যায় জানিয়েছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মাসুদুল হাসান মাসুদ। তিনি জানান, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফ্লাইট চলাচল সাময়িক স্থগিত রয়েছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের মোট ৩৭টি ইউনিট কাজ করছে।