কার্গো ভিলেজের আগুনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তৈরি পোশাক শিল্প: বিজিএমইএ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজের আগুনে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষতি বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিজিএমইএ নেতারা। তারা জানান, আগুনে শত শত কারখানার পণ্য পুড়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফার্মা কোম্পানিগুলোর। কোনো কোনো ওষুধ কোম্পানির ক্ষতি শত কোটি টাকার বেশি বলে জানান সিএন্ডএফ কর্মীরা। বিমা সুরক্ষা না থাকায় বাণিজ্যিক পণ্য আমদানিকারকরাও পড়েছেন বড় ক্ষতির মুখে। 

ঢাকা কাস্টমস হাউসের সামনে নিশ্চল সারি সারি কাভার্ড ভ্যান। নেই পণ্য খালাস কিংবা পরিবহনের তাড়া। সাপ্তাহিক কর্মদিবসের শুরুতে এ যেন সম্পূর্ণ অচেনা পরিবেশ। 

সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের শত শত কাস্টমস সরকার ব্যস্ত দিনভর। তবে এ ব্যস্ততা পণ্য খালাসে দলিল দাখিলের জন্য নয়। বরং তারা মগ্ন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণে। 

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প। আগুনে ছাই হয়েছে শত শত কারখানার কাচাঁমালসহ নানা ধরনের পণ্য। দুপুরে ক্ষয়ক্ষতি দেখতে আসেন শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতারা। ক্ষোভ জানান, শিল্পের এমন পরিণতিতে। 

টাকার অংকে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে ওষুধ শিল্প খাত। সিএন্ডএফ কর্মীদের সাথে কথা বলে যার ধারণা মেলে। তারা জানান, স্কয়ার ফার্মার প্রায় তিনশ' কোটি টাকা, এরিস্ট ফার্মার ৫০ কোটি, হেলথকেয়ারের ৩৫ কোটি টাকার ওষুধ তৈরির জন্য আনা কাঁচামাল পুড়ে গেছে। পণ্য পুড়েছে বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণফোনসহ অনেক বিদেশি বিনিয়োগের কোম্পানিরও। 

ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কসমেটিকস, ইলেকট্রনিকসসহ নানা ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য আমদানিকারকরা। কারণে তাদের অনেকের পণ্যের বিমা সুরক্ষা নেই। ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা, কবে সচল হবে আমদানি ব্যবস্থা। 

এদিকে আর্থিক ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কমিটিতে আছেন মন্ত্রণালয় ও এনবিআর কর্মকর্তারা।