আর মাত্র কয়েক মিনিটের অপেক্ষা। নিথর দেহে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে শুয়ে আছেন বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিগন্তজোড়া জনসমুদ্র এখন জানাজার জন্য কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চারদিকে পিনপতন নীরবতা, শুধু মাঝেমধ্যে মাইকের যান্ত্রিক আওয়াজ আর মানুষের চাপা কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, খামারবাড়ি, ফার্মগেট এবং বিজয় সরণি পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ জানাজার জন্য কাতারবন্দি হয়েছেন। ভিড় সামলাতে সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
বেগম জিয়ার মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যানটি জানাজার নির্ধারিত মঞ্চের সামনে আনা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে মরদেহটি সেখানে পাহারায় রেখেছে সেনাবাহিনী।
সামনের কাতারগুলোতে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পরিবারের সদস্যরা, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ অন্তত ৩২টি দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। তাঁদের ঠিক পেছনেই রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা।
জানাজা পরিচালনা করার জন্য মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। মাইকে বার বার জানাজার নিয়মাবলী ও কাতার সোজা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক ও বিজিবির সদস্যরা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানাজা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে মাঠের পরিস্থিতি অত্যন্ত আবেগঘন। অনেকের হাতে তসবিহ, কারও হাতে জায়নামাজ। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা চোখের জল মুছতে মুছতে প্রিয় নেত্রীর আত্মার মাগফেরাত কামনায় হাত তুলছেন।
জানাজা শেষ হওয়ার পরপরই মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জিয়া উদ্যানে। সেখানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে ইতিমধ্যেই সমাহিত করার সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গান স্যালুটের মাধ্যমে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
পুরো জাতি এখন রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্য, যখন লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হবে ‘আল্লাহু আকবার’।