দেশে আরও বেশি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে কেয়ার সেন্টার) প্রতিষ্ঠা করা গেলে নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ হবে বলে জানিয়েছেন জিয়া ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র নারীদের কর্মসংস্থান ও কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর পানি ভবনে ‘শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৪২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তবে মাতৃত্ব ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে প্রায় ৭৫ শতাংশ নারী কোনো না কোনো সময়ে চাকরি ছেড়ে দিতে বা কর্মবিরতি নিতে বাধ্য হন। কর্মজীবী মায়েদের বড়ো একটি অংশ সন্তানকে বাসায় রেখে কর্মস্থলে যান। এই সঙ্কট নিরসনে দিবাযত্ন কেন্দ্র বড়ো কার্যকর সমাধান হলেও সরকারি পর্যায়ে এমন কেন্দ্রের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় এখনও বেশ কম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সারাদেশের ১২৩টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে হাজারের বেশি শিশু সেবা পাচ্ছে। এই সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। দিবা পরিচর্যা কেন্দ্র না থাকায় চাকরিজীবী মায়েরা অনেক সময় অসহায় হয়ে শিশুকে বাসায় একা রেখেই কাজ করেন, যা শিশুর মনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও যোগ করেন, মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক ‘চাইল্ডহুড’ তৈরি করা হবে, যাতে স্নেহ ও পারিবারিক আবহেই শিশুরা মেধা ও মননের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের জন্য চলতি বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ডে কেয়ার সেন্টার হলো শিশু ও কর্মজীবী অভিভাবকদের জন্য একটি নিশ্চিত জায়গা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্মজীবী মা-বাবার কথা ভেবেই এই পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে মেধা ও সামাজিক বিকাশ ছড়িয়ে দিতে পারলে তারা সামনে আরও এগিয়ে যাবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, কর্মজীবী পরিবার যাতে ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাভাবিক ও বিকাশবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য প্রধানমন্ত্রী অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে চান। মোটামুটি একটি আন্তর্জাতিক মানে আমরা পৌঁছাতে পেরেছি। সেই জায়গাকে ব্যবহার করে সবার জন্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়া হবে।
এর আগে সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সরকারি শিশু পরিবার, ভূমি ভবন ও পানি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় তিনি শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার খোঁজখবর নেন।