কোনো প্রতিবন্ধকতাই যেন শিশুদের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য দেশের সব অবকাঠামোতে প্রতিবন্ধীবান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের লক্ষে ‘শিশু স্বর্গ’ মডেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহবান জানান।
প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাসকারী কড়াইল বস্তিতে নানা সীমাবদ্ধতা ও অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু ও ব্যক্তি প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন। তাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই বিশেষ প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাস-ট্রেনসহ গণপরিবহন এবং দেশের প্রতিটি অবকাঠামো প্রতিবন্ধীবান্ধব করতে হবে, যাতে কোনো শিশু সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। প্রতিবন্ধীবান্ধব দেশ গড়তে গণপরিবহনে বিনা ভাড়ায় সেবা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, দুই মাসের মধ্যে প্রতিবন্ধীরা সুফল পাবে এমন লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভালো স্কুলে প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে স্বাভাবিক শিশুদের পড়তে না দেওয়ার যে সামাজিক মানসিকতা রয়েছে, তা পরিবর্তনেরও আহবান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নত শিক্ষা পাবে। সবার সম উদ্যোগ প্রতিবন্ধী শিশুদের সমাজে স্বাভাবিক ভাবে বসবাসে সহায়ক ভুমিকা পালন করা হবে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, প্রতিবন্ধকতাকে সহজ করে নেওয়া এবং বিশেষ সক্ষম ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য। এই উদ্যোগ প্রতিবন্ধী শিশুর মা-বাবার চোখে মুখের উচ্ছ্বাস সারা বাংলাদেশ ছড়িয়ে দিতে চাই। বিশেষভাবে সক্ষম লোককে তাকে সেভাবেই অধিকার পাওয়ায় সুযোগ করে দিতে চাই। মনিটরিং করে প্রতিবন্ধীদের যে স্কুল রয়েছে তা আও সুসংহত করা।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে চান প্রতিবন্ধীদের স্বাভাবিক জীবন উপহার দিতে। রাষ্ট্রের চরিত্র পরিবর্তন জরুরি এবং সরকার মানুষের অধিকার নিয়েই কথা বলছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রতিটি উপজেলায় কার্যকর মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সরকারি ভবনসহ সব অবকাঠামো ও রেস্টুরেন্টে আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিবন্ধীবান্ধব বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে।
বক্তারা মনে করেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
