সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তিনি।
রোববার, রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, সংস্থায় সংস্কার না হওয়ায় দুদক এখনো সরকারের আদেশে কাজ করছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের মিছিল জনগণের জন্য নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করছে উল্লেখ করে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিএনপি জোরালো ভূমিকা নিচ্ছে না।
এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ সময় জানান, তারা স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চে দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
এর আগে রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বিদেশে অর্থ পাচার ও সম্পত্তি ক্রয়: দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ থেকে দুবাইতে ৪,৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩,০০০ কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২,০০০ কোটি এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে ১,৫০০ কোটি টাকাসহ মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি, দুবাইতে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয় এবং গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া দুই ভগ্নিপতি ও ভাগ্নের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
নিয়োগ ও পদায়ন বাণিজ্য: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা ওয়াসার এমডি নিয়োগে ১০ কোটি, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগে ৫২ কোটি এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সিইও নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা বলা হয়।
টেন্ডার ও প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০-৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১,২০০ কোটি টাকা কৃত্রিমভাবে ব্যয় বাড়িয়ে আত্মসাতের তথ্যও এতে রয়েছে।
স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার: রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করে পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান, বিলাসবহুল গাড়ি ও হেলিকপ্টার ব্যবহার এবং তার বাবা বিল্লাল হোসেন, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ও পিও মাহফুজুল আলমের মাধ্যমে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব গুরুতর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে।