মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র বহনের ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ অভিযানে অংশ নেওয়া এবং প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। প্রতিমন্ত্রীর দাবি, আত্মরক্ষা এবং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ করতেই অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য তিনি তাঁর নিজস্ব লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

গত শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে অভিযানের ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়ে যায়। ভিডিওটি নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন তিনি।

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, ঢাকা-৬ আসনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলাসহ আশপাশের এলাকায় মাদক কারবারের বিষয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাচ্ছিলেন। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলটি মাদক সিন্ডিকেটের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুন মাসেও মাদকের জেরে তিন জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে স্থায়ী ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য ডিও লেটার (আধা সরকারিপত্র) প্রদান করেন।

Ishrak Drive 01
শনিবারের অভিযান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি পুলিশ, স্থানীয় রাজনীতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেয়া একটি সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি ছিল। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে গোয়েন্দা সূত্রে তাঁরা খবর পান যে মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একদল দুষ্কৃতকারী হইচই করে মারমুখী ভঙ্গিতে তাদের গাড়িবহরের দিকে ধেয়ে আসে।

ইশরাক হোসেন বলেন, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার নিকট পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসে। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরেই গেন্ডারিয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয় এবং যৌথ অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। আস্তানাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মোবাইল জব্দ করার পাশাপাশি ছয়জন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়।

Ishrak Drive 02
বিবৃতিতে দেশের কয়েকটি প্রথম সারির গণমাধ্যমের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কিছু সংবাদমাধ্যম অভিযানের আসল সাফল্য, পুলিশি ভূমিকা ও মাদক-অস্ত্র উদ্ধারের ইতিবাচক দিকটি এড়িয়ে খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে মূল প্রেক্ষাপট এড়িয়ে গিয়ে তাঁর চরিত্রহননের অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি ।

ইশরাক হোসেন বলেন, বিকৃত, মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট এসব সংবাদ মূলত অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ৬ জন অপরাধী আটকের ইতিবাচক দিকটি সুপরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা সরকার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’ এই খণ্ডিত দৃশ্যটিকে চটকদার শিরোনামে প্রচার করেছে, যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

যে কোনো সমালোচনার মুখেও জনস্বার্থে গেন্ডারিয়াসহ পুরো এলাকায় মাদকবিরোধী এই কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।