বর্তমান সরকারকে ‘সুস্পষ্টভাবে ভুল পথ’ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করা যাবে না যার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের জনগণ ও যুবসমাজ আর কোনো আধিপত্যবাদ বরদাস্ত করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক লড়াই জামায়াতে ইসলামী অব্যাহত রাখবে।
শুক্রবার সকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জামায়াতের আমির এসব মন্তব্য করেন।
ভাষণে সরকার ও প্রশাসনের নানা কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রতিশ্রুতি না মেনে দেশে আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার আয়োজন চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধার তোয়াক্কা না করে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বচ্ছ চেয়ারম্যানকে সরিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিকে বসানো এবং সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) নজিরবিহীন পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের মেধার অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
র্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, সরকার নির্বাচন ও সংস্কার প্রস্তাবে র্যাব বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে শুধু বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে ‘এসআরবি’ করেছে। পিয়ন থেকে কমান্ডার, পোশাকের রঙ কিংবা লোগো- সবকিছু আগের মতো রেখে কেবল নাম বদলে আলামত ও নির্যাতনের আড়াল তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জামায়াতের প্রস্তাব ছিল প্রেষণে আসা সদস্যদের মূল বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে দেশপ্রেমিক লোক নিয়ে নতুন বাহিনী গড়ার।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সংসদকে স্বাভাবিকভাবে চলতে না দিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার গায়ের জোরে রাতারাতি সবকিছু পাস করানো হচ্ছে। জনগণ সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন ও সংস্কারের রায় দিয়েছিল। কিন্তু সরকার সংবিধান সংশোধনের দিকে হাঁটছে। এ অবস্থায় বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী জনগণের অধিকার রক্ষায় ৭ দফা দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে। বিগত ২০২৪ সালের আন্দোলনে জামায়াত সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হলেও সেই বিপ্লবের একক কৃতিত্ব কখনো দাবি করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তারা আমৃত্যু লড়ে যাবেন।