সুন্দরবনের জীবনযাত্রা-১

ঋণের জালে আটকে জেলে ও বাওয়ালীদের জীবন

বার বার দুর্যোগে সর্বস্ব হারিয়ে সুন্দরবনের জেলে বাওয়ালীরা আটকে যাচ্ছেন ঋণের জালে। তারা বলছেন, সদ্য গজিয়ে ওঠা ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে জাল নৌকা বাধা দিয়ে তারা বনে যান।

সংগ্রহ করা মাছ ও কাঠ ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিয়ে শুধু মজুরি নেন। ঋণদাতারা স্বেচ্ছায় ঋণ দেয়ার কথা স্বীকার করলেও এই লেনদেনের কোন সরকারি অনুমতি দেখাতে পারেননি।

সুন্দরবন ঘেঁষা কয়রা উপকূলের কাছাকাছি গেলে দেখা মেলে কিছু মাছের আড়ত বা ডিপোর। জেলে বাওয়ালীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে সুন্দরবনের জেলেরা সরাসরি এসব মাছের ডিপো বা আড়তে গিয়ে মাছ বিক্রি করতেন।

এখন সেখানে মাছ দিয়েই চলে আসতে হয়। কারণ আগেই ডিপো মালিকের কাছ থেকে দাদনে টাকা নিয়ে নিয়েছেন তারা। এসব ডিপোগুলো এখন জেলে বাওয়ালীদের কাছে কোম্পানি হিসাবেই বেশি পরিচিত।

সুন্দরবনের এক এলাকার দেখা পাওয়া গেলো জেলে নাসিমের। অনেক বছর ধরে তিনি মাছ ধরে আসছেন সুন্দরবন এলাকায়, এখনও ধরছেন। তবে, এখন পাস নিয়ে জঙ্গলে ঢুকলেও জানে না পাস নেয়ার খরচ। তিনি বললেন, সব খরচের কথা জানেন কোম্পানি মালিক।

জেলে বাওয়ালীদের ঋণ দেয়ার কথা স্বীকার করে নিলেন এক ডিপো মালিক আসাদুজ্জামান মিন্টু। তারা জেলেদের সঙ্গে মূলত ব্যবসা করেন। এ থেকে সামান্য কিছু কমিশন পান।

আরও পড়ুন: ঋণ নিতে দুর্ভোগে কৃষকরা, কাজ হয় না দালাল ছাড়া

আরেক কোম্পানি মালিক সাহিদ বলেন, সুন্দরবনের মধ্যে জেলেরা নানা অপকর্ম করে। আর এর দোষ চাপায় কোম্পানিগুলোর ওপর।

শুধু কয়রা এলাকায় ১৫টি ডিপো বা কোম্পানি রয়েছে। গোটা সুন্দরবন উপকূল জুড়ে এ রকম একশ’র বেশি কোম্পানি রয়েছে। জেলেদের অভিযোগ দুঃসময়ে ঋণ দিয়ে তাদের আটকে ফেলে কোম্পানিগুলো। সারা বছর কাজ করে তারা শুধু নির্ধারিত হারে মজুরি পান।


একাত্তর/আরএ