কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার সীমান্তঘেষা ১৭টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ব্রিজের অভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ২৪ বছর পূর্বে কাশিয়াবাড়ীর পূর্ব পাশের খালের রাস্তা ভেঙ্গে গেলেও এখন পর্যন্ত নির্মাণ হয়নি ব্রিজ।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষসহ হাজারও মানুষ চলাচল করে ।
স্থানীয়রা জানায়, যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ীর পূর্ব পাশের খালে গ্রামবাসী ও যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে ১২০ ফুট বাশেঁর সাঁকো তৈরী করেছিল ২০১৯ সালে। বর্তমানে বাঁশের সাকোঁটি ভেঙ্গে গেছে। নৌকা দিয়ে রিক্সা-ভ্যান, মালামাল, কৃষিপণ্য ও জনসাধারণ ঝুঁকি নিয়ে যাতয়াত করছে।
চুলিয়ারচর গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, ব্রিজ না থাকায় আগে আমরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতাম। এখন সেই সাঁকোও ভেঙ্গে গেছে, নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয়। মালামাল পরিবহন করতে কষ্টের সাথে সাথে ভাড়াও বেশি লাগে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ২০ থেকে ২৫বছর ধরে রাস্তা ভেঙ্গে গেলেও এখন পর্যন্ত ব্রিজ নির্মাণের খবর নেই।
কলাবাড়ী গ্রামের শিক্ষক মো. এমদাদুল হক বলেন, একটি ব্রিজের অভাবে ১৭টি গ্রামের মানুষ দূর্ভোগে পড়েছে। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব এলাকার মানুষ অনেক কষ্টে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করে।
আরও পড়ুন: মুজিবুল হক চুন্নু জাপার নতুন মহাসচিব
এবিষয়ে যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, প্রকল্প নিয়ে খালের উপর আমি বাঁশের সাঁকো তৈরীতে সহযোগীতা করেছিলাম। বর্তমানে সাঁকো ভেঙ্গে গেছে। বন্যার পরে ব্রিজের নিমার্ণ কাজ শুরু হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাগব হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মো. জুবায়ের হাসান বলেন, ব্রিজ নিমার্ণের বরাদ্দ ও টেন্ডারের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে ব্রিজটির নিমার্ণ কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ব্রিজের অভাবে রৌমারী উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১৭টি গ্রাম হলো- বড়াইবাড়ী, ঝাউবাড়ী, পুর্ব বারবান্দা, চুলিয়ারচর, বারবান্দা, বাওয়াইর গ্রাম, বকবান্দা, খেওয়ারচর, পুর্ব দুবলাবাড়ী, ইজলামারী, চর ইজলামারী, পাটা ধোয়াপাড়া, চর কলাবাড়ী, কলাবাড়ী, দুবলাবাড়ী, পুরাতন যাদুরচর ও নয়ারগ্রাম।
একাত্তর/টিএ