কুমিল্লায় পূজা মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনের কুমিল্লার আদালতে আনা হয়েছে।
শনিবার (২৩ অক্টোবর) ১১টা ৫৪ মিনিটে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মিথিলা জাহান নিপার আদালতে তাকে তোলা হয়। কোতয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা কোরআন অবমাননার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর হোসেন জানান, ইকবালের সাথে ইকরাম হোসেন রেজাউল ও হাফেজ হুমায়ুনকেও একই আদালতে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে একটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়। এরপর কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই মণ্ডপে হামলা চালায় একদল লোক। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় দেশের একাধিক মন্দির-মণ্ডপে হামলা হয়।
আরও পড়ুন: দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৫৮৪
বুধবার (২০ অক্টোবর) একটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ইকবালকে শনাক্ত করে পুলিশ। কুমিল্লার পূজামণ্ডপে ইকবালই কোরআন শরিফ রেখেছিলেন। তারপর থেকেই তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলো পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের সামনে আসে। সেখানে দেখা যায়, ইকবাল রাত ২টার পর স্থানীয় দারোগাবাড়ী শাহ আব্দুল্লাহ গাজীপুরী (রহ.) এর মাজার থেকে বেরিয়ে পূজামণ্ডপের দিকে যাচ্ছে, তখন তার হাতে পবিত্র কোরআন শরিফ ছিল।
এরপর ৩টা ১২ মিনিটের দিকে তাকে পূজামণ্ডপের দিক থেকে ফিরে আসতে দেখা যায় আরেক ভিডিওতে। তখন তার হাতে পবিত্র কোরআন শরিফের পরিবর্তে ছিল একটি গদা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়া দীঘির ওই পূজামণ্ডপে থাকা হনুমানের মূর্তির কোলে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ রাখা ছিল। তখন হনুমানের মূর্তির হাতে থাকা গদাটি পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে কক্সবাজার থেকে আটক করে পুলিশ।
একাত্তর/এসি