পাঁচ কোটি টাকার ফগ লাইট এখন ‘ডেড কেস’

দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় যাত্রী ভোগান্তি লাঘবে ২০১৪ সালে ৯টি ফেরিতে ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট স্থাপন করা হলেও সেগুলো বিকল পরে আছে বছরের পর বছর। নেই সংস্কার বা মেরামতের কোনো উদ্যোগ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ, ঘাটে ঘাটে দিনভর যানজট থাকলেও রহস্যজনক কারণে নীরব বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তারা। এদিকে  প্রায় পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে কেনা সেই লাইটগুলো এখন ‘ডেড কেস’ বলছেন খোদ বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তা। 

বিআইডব্লিউটিসি’র সূত্র জানায়, নৌরুটে ভোগান্তি কমাতে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচলকারী খানজাহান আলী, শাহ আলী, কেরামত আলী, ভাষা শহীদ বরকত ও কে-টাইপ ফেরি কপোতি, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, শাহ আমানত ও শাহ পরান ফেরিতে ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট সংযোজন করা হয়। লাইটগুলো সংযোজন করার পর থেকেই কোনো কাজে আসেনি। ফলে এ বছরও কুয়াশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকছে ফেরি। 

যাত্রী ও বাস-ট্রাক চালকদের অভিযোগ, বড়ো ধরনের লুটপাট ও তদারকির অভাবে সরকারের পুরো টাকাই জলে গেছে। 

কয়েকজন ট্রাক চালক অভিযোগ করে বলেন, একটু কুয়াশা হলেই বন্ধ রাখা হয় ফেরি। তিন-চারদিন রাস্তায় আটকে থেকে বাড়ছে খরচ। গাড়ি থেকে চুরি ও ছিনতাই এর ঘটনা ঘটছে অহরহ। এর ওপর রয়েছে দালাল ও অসাধু কর্মকর্তাদের উৎপাত।

বাস চালকেরা জানান, এখন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই দুর্ভোগ কী দেখার কেউ নেই? প্রতি বছর এই ভোগান্তি থাকে কিন্তু সরকারের নজরে আসেনা বিষয়টি।

ফেরি চালক কেরামত আলী ও বিল্লাল মিয়া জানান, কুয়াশায় ফেরি চলাচল মাঝে মাঝেই ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে মাঝ নদীতে আটকে থাকতে হচ্ছে। আপাতত কুয়াশা ছাড়া এই নৌরুটে কোন সমস্যা নেই। 

আরও পড়ুন: নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকেও পদ গেলো মুরাদের

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, কুয়াশা বিষয়টি আল্লাহ’র ওপর ছেড়ে দেন। আর ফগ লাইট এখন ডেড কেস। এ নিউজ করে এখন কোনো লাভ নেই।

তবে অচিরেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন চালক ও যাত্রীরা।


একাত্তর/এসি