নাটোরের নলডাঙ্গায় এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ১৫ মিনিট দেরিতে আসায় ছাতারভাগ স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে দেয়নি শহীদ নজমুল হক সরকারী ডিগ্রি কলেজের কেন্দ্র সচিব।
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) উপজেলার শহীদ নজমুল হক সরকারী ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগি শিক্ষার্থী কামাল সরদার উপজেলার ধনকড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের ছেলে। তার বাবার নাম শহিদুল সরদার।
তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই পরীক্ষার্থী ২০ মিনিট পর পরীক্ষা কেন্দ্রে আসায় তাকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি।
উপজেলার শহীদ নজমুল হক সরকারী কলেজে গত ২ ডিসেম্বর থেকে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ছাতারভাগ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী কামাল সরদারের ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল।
দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় জীবিকার তাগিদে নাটোর শহরে রড মিস্ত্রির কাজ করত কামাল। সে বৃহস্পতিবার সকালে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য নাটোর শহর থেকে রওনা হয়।
আরও পড়ুন: কলমাকান্দায় পানিতে পড়ে শিশু লাবিবার মৃত্যু
কিন্ত সড়কে যানজট থাকায় পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে তার ১৫ মিনিট দেরি হয়। এই দেরির কারণ দেখিয়ে শহীদ নজমুল হক সরকারী কলেজের কেন্দ্র সচিব ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আছির উদ্দিন তাকে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে দেয়নি।
কামাল জানায়, সে গরীব কৃষক পরিবারের সন্তান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সে চতুর্থ। দিন হাজিরা দিয়ে রড মিস্ত্রির কাজ করে সংসারে বাবার সহযোগিতা করতে হয় তাকে। পরীক্ষার দিন নাটোর থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে তার ১৫ মিনিট দেরি হওয়ায় তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি।
শহীদ নজমুল হক সরকারী ডিগ্রি কলেজের কেন্দ্র সচিব ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আছির উদ্দিন বলেন, এই কেন্দ্রে সাতটি কলেজের ৩২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ্রগ্রহণ করে। পরীক্ষা প্রস্ততিমুলক সভায় নির্ধারিত কার্যবিবরণীতে পরীক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট পর কোন পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিধান নেই। এই কারণে ওই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
একাত্তর/এসজে