মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে ঘাসের জমিতে বাংলাদেশের ছবি এঁকেছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়াচরের কৃষক রুমান আলী শাহ।
নিজের এক খণ্ড জমি তাঁর ক্যানভাস। সেখানে আট মাস ধরে নানান জাতের ঘাস ও সবজি রোপণ করে এঁকেছেন, দেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
রুমান আলী শাহ। কৃষি কাজ করে সংসার চলে তার। নিজের কৃষি জমিতে গেলো আট মাস ধরে নিরলস পরিশ্রমে অসাধ্য সাধন করেছেন।
বিভিন্ন জাতের ঘাস আর সবজি চাষ করে মাটির ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন বাংলাদেশের পতাকা, মানচিত্র আর জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
রুমন আলীর আট মাসের কঠোর পরিশ্রম আজ তাই সফল। তাঁর সৃষ্টি দেখতে দূর দূরান্ত থেকে আসছেন মানুষ।
সাংবাদিকদের তিনি বললেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আট মাস নিবিড় ভাবে কাজ করেছেন। পেশায় কৃষক তাই মাটি আর সবুজের বাইরে কিছু ভাবতে পারেননি।
তার এই কাজে সব সময় উৎসাহ দিয়েছেন এলাকার মানুষ। তাই কাজ শেষ হওয়ার পর তারাও গর্ব করেছেন রুমান আলী শাহকে নিয়ে।
কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসির মিয়া জানালেন, দেশের প্রতি ভালবাসা থাকলে এমন অসাধ্য সম্ভব।
কুলিয়ার চরের জাফরাবাদ এলাকার কৃষক রুমান আলী বাড়ির পাশে নিজের ছয় শতক জমিতে দেশের প্রতি তার এই সৃজনশীল ভালবাসা প্রকাশ করেছেন।
দেশের প্রতি রুমানের এমন মমত্ববোধ এটি প্রথম নয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে জমিতে লালশাক আর পালংশাক দিয়ে তৈরি করেছিলেন মানচিত্র, পতাকা আর আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা।
আরও পড়ুন: অব্যবস্থাপনা যান্ত্রিক দুর্বলতায় সেই প্লাস্টিক কারখানায় আগুন
তারও আগে সবজি চাষ করে শহীদ মিনারের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। দেখিয়েছেন বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা। এভাবেই জানিয়েছেন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।
রুমানের সব কাজেই ব্যতিক্রমী ছাপ রয়েছে। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনে ভালো কিছু করতে না পেরে দেশে এসে নিজের জমিতেই গড়ে তোলেন ‘মিশ্র বহুমুখী খামার বাড়ি’।