মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠকের স্মৃতিবিজড়িত তেলিয়াপাড়া বাংলো

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা বাগান ব্যবস্থাপকের বাংলোতেই গোটা যুদ্ধের কৌশল ঠিক করেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা। 

পরবর্তীতে তিন নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল বাংলোটি। স্বাধীনতার পর বুলেট আকৃতির একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা সেখানে। 

সিলেট প্রবেশে তেলিয়াপাড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। সেখান থেকে মুক্তিবাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা ছাড়াও চা বাগানটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে উঠে।

একাত্তরের ৪ এপ্রিল মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক বাংলোতেই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। 

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন ২৭ সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সেই বৈঠকেই দেশকে স্বাধীন করার শপথ এবং যুদ্ধের রণকৌশল গ্রহণ করা হয়।

রণাঙ্গনকে ভাগ করা হয় চারটি সেক্টরে। পরে যা ১১টি সেক্টর ও তিনটি ব্রিগেডে ভাগ হয়। তিন নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার হয় এই তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজারের বাংলো। 

কিন্তু ১৯৭১ সালের ২১ জুনের পরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তেলিয়াপাড়া চা-বাগান থেকে ওই কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া হয়।

এভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা মিশে আছে এই তেলিয়াপাড়া চা- বাগানের বাংলোয়। হানাদার বাহিনীর সঙ্গে বেশ কিছু রক্তক্ষয়ী সম্মুখযুদ্ধেরও সাক্ষী বাংলোটি।

কিন্তু ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি আজও তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপকদের বাংলো হিসেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

অবশ্য ২, ৩ ও ৪ নম্বর সেক্টরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে বাংলোর পূর্ব-দক্ষিণ কোণে নির্মিত হয়েছে তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ। 

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা আসেন এখানে। জায়গাটি সংরক্ষণের পাশাপাশি নানা উন্নয়নের পরামর্শ তাদের।

আরও পড়ুন: সরকারি স্কুলে ভর্তির লটারি উদ্বোধন, রাতেই ফল প্রকাশ

জেলা প্রশাসক জানান, তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের সব রকম চেষ্টা রয়েছে তাদের। 

হবিগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তেলিয়াপাড়া চা-বাগান। জেলার মাধবপুর উপজেলার মধ্যে পড়েছে স্থানটা।