বিভিন্ন স্থানে বিএনপির সমাবেশে বাধা, হামলা, ফাঁকা গুলি

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে বিভিন্ন জেলায় গণসমাবেশে হামলা, ফাঁকা গুলির পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এরমধ্যে পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন দলটির অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী।

লালমনিরহাটে ছাত্রদলের মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দেয়ার পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ। এছাড়া জমায়েত ঠেকাতে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়।

আর, নওগাঁয় ১৪৪ ধারা জারি করায় নির্ধারিত সমাবেশে করতে না পেরে ক্ষোভ দেখিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। 

আমাদের নওগাঁ প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, জেলায় প্রায় একই সময় বিএনপি ও যুবলীগের সমাবেশ ঘিরে সংঘাত এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। 

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ সই করা এক আদেশে নওগাঁর সমগ্র পৌরসভা এলাকায় এ ধারা জারি করা হয়।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল তিনটা থেকে আগামী ২৯ ডিসেম্বর বিকেল তিনটা পর্যন্ত এই আইন কার্যকর থাকবে। 

আরও পড়ুন: বস্তাভর্তি সিলমারা ব্যালট উদ্ধার, পুলিশে নির্বাচন অফিসার

এ সময় পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সভা, সমাবেশ ও দলবদ্ধ কোনো কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সে সঙ্গে পৌর এলাকায় কোনো জনসমাবেশ করা যাবে না।

নওগাঁয় সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে মঙ্গলবার স্থানীয় একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নওগাঁ জেলা বিএনপি। 

এ সময় বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পথ চলতে চাই। সেই পথে চলতে গিয়ে যখন বাধাপ্রাপ্ত হব, তখন আর নিয়মের তোয়াক্কা করব না। 

তিনি আরো বলেন, প্রশাসন যদি জনগণের মুখোমুখি হতে চায় সেই চ্যালেঞ্জ অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে। কারণ, আমরা পাকিস্তানের সুদক্ষ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি।

এদিকে, লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১টার দিকে ছাত্রদলের মিছিলটি শহরের মিশন মোড়ে পৌঁছালে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ফাঁকা গুলিও ছোঁড়ে। 

একাত্তর টিভির পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, শহরের শহীদ আলাউদ্দিন শিশু পার্কে জেলা বিএনপি ডাকা সভাস্থলে হামলা ও ভাংচুর হয়েছে। 

এ সময় ইটের আঘাতে দশজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। তাদের দাবি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাঠে ঢুকে হামলা চালায়। 

ধাওয়ার মুখে উপস্থিত বিএনপি নেতা-কর্মীরা দৌড়ে সভাস্থল ত্যাগ করলেও হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর তারা মাঠে ফিরে আসেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


একাত্তর/এসজে