প্রেমের টানে বাংলাদেশে ভারতীয় তরুণী, ফেরত পাঠালো পুলিশ

প্রেমের টানে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন খুসনামা (১৭) নামের এক ভারতীয় তরুণী। এ কারণে পুলিশের হাতে আটকও হন তিনি। পরে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (১৮ বিজিবি) সহায়তায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (২৭৬) বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই তরুণীর বাবা-মায়ের উপস্থিতে তাকে ভারতে পাঠিয়েছে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলার পুরাতন বাজারের তেলীপাড়া নামক স্থানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো লাইনের পিলার নাম্বার ৪৪২ এর ৭.এস ও ৪৪৩ মেইন পিলার বরাবর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়। 

এ সময় ভারতীয় বিএসএফের ২৭৬ ব্যাটালিয়নের এসিস্টেন কমান্ডার কামাল সিং, ইন্সপেক্টর উপেন্দ্র সিং, প্রমোদ কুমারসহ ভারতীয় গোয়াল পুকুর থানার কনেস্টবল দিলিপ কুমার সরকার, বিজিবি তেঁতুলিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো: আব্দুল মোতালেব, তেঁতুলিয়া মডেল থানার এসআই তপন কুমারসহ বিজিবি-বিএসএফ ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন৷ 

প্রেমের টানে ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে পঞ্চগড়ে আসা খুসনামা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপুকুর থানার হরিয়ানা গ্রামের ইসরাইল হোসেনের মেয়ে। 

এর আগে গত বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতার অতিক্রম করে তেঁতুলিয়ায় এক বাড়িতে অবস্থান নিলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে আটক করে বিজিবিকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বিজিবি বিকেলে বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করে ওই তরুণীর পরিচয় জানালে শুক্রবার তাকে তার দেশে ফেরত পাঠানো হয়। 

মেয়েটির বাবা-মা জানান, সে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে এসেছে। বাংলাদেশ পুলিশের কাছে ছিলো বলে মেয়েটি নিরাপদ ছিলো। যে কারণে আমার আমাদের মেয়ের সন্ধান পেয়েছি।

আরও পড়ুন: বাড়ি পাশে পুকুরে ভাসছিল দুই মাস বয়সের যমজ নবজাতক

এদিকে তেঁতুলিয়া থানার ওসি জানান, প্রেমের টানে ভারত থেকে পালিয়ে আসা মেয়েটিকে গতকাল একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়, পরে গতকাল বিকেলে বিজিবি বিএসএফের সহযোগিতায় পতাকা বৈঠকের পর  ফেরৎ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়, আজ দুপুরে  দুই সীমান্তের বিজিবি বিএসএফ ও পুলিশের উপস্থিতে ফেরৎ দেওয়া হয়। 


একাত্তর/আরবিএস