সুতাসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বাড়ার কারণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচির তাঁতশিল্প। প্রশাসন থেকে দেয়া ঋণ নিয়েও আছে নানা অনিয়ম।
আর তাঁত মালিকদের ঋণ দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়েছে মুদি দোকানিদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণসহ স্বল্প সুদে ঋণ দিলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের জেলা সিরাজগঞ্জ। করোনাকালে জেলার তাঁত শিল্পসমৃদ্ধ গ্রাম গুলোতে হঠাৎ থমকে গেছে প্রাণচাঞ্চল্য। বদলাতে শুরু করেছে মানুষের জীবনযাত্রা।
বেলকুচির তামাই তেমনই একটি এলাকা। তাঁতের কারখনায় এখন পশুর খামার করেছেন। তার মত অন্তত ২০ জন তাঁত মালিক আছেন যারা তাঁত বন্ধ করে দিয়েছেন অথবা বন্ধ রেখেছেন।
করোনা আর বন্যায় মন্দা ব্যবসায় ব্যাংকের চড়া ঋণের ভার বইতে না পেরে বেলকুচি এলাকার অর্ধেকেরও বেশি তাঁত কারখানা এখন বন্ধই হয়ে গেছে।
তাঁত মালিকদের অনেকেই আবার কারখানায় বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে শুরু করেছেন গবাদিপশু খামার। কিংবা হাস-মুরগির খামার।
তাঁত শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘ সময় করোনার পাশাপাশি বন্যা থাকায় তাঁতের বাজার মন্দা দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেক তাঁত কারখানার বন্ধ হয়ে গেছে।
যেসব কারখানা চালু আছে সেগুলোর উৎপাদিত শাড়ি, লুঙ্গি ঠিকমতো বিক্রি করতে না পারায় আয় কমে গেছে। ফলে এখন তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আর, তাঁত কারখানার মালিকরা জানান, তাঁতের সরঞ্জাম, রং ও সুতাসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্য অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় অনেক কারখানার মালিক তাঁত বিক্রি করে দিয়েছেন
কেউ কেউ তাঁত মেশিন বিক্রি করে সেই ঘরেই এখন গবাদি পশু পালন করছেন। আবার অনেকেই ঋণের কারণে তাদের কারখানা বন্ধ রেখে বেকার হয়ে দিন পার করছেন।
সরকার তাদের এই দুর্দিনের বিষয়টি মাথায় রেখে যদি স্বল্প সুদে ঋণ দেয় এবং প্রয়োজনীয় রং ও সুতাসহ অন্য জিনিসের দাম স্থিতিশীল রাখে তাহলেই বন্ধ তাঁত কারখানা আবারো চালু হবে।
অন্যদিকে, তাঁতী সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, সরকার ক্ষতিগ্রস্থদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রনোদনার উদ্যোগ নিলেও তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্য তা সফল হয়নি
তবে আশার কথা শোনালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এরই মধ্যে তাঁতীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া শুরু হয়েছে। আর অন্যদেরও এর আওতায় আনা হবে বলেও জানালেন তিনি।
একাত্তর/টিএ