ক্যালেন্ডারের পাতায় ১৫ দিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর, আর তার পরপরই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। জোড়া উৎসবের আমেজকে সামনে রেখে ব্যস্ততার তুঙ্গে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লীগুলো। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁতের ‘খটখট’ শব্দে এখন মুখরিত পাথরাইল, বাজিতপুরসহ বিভিন্ন এলাকা। বাহারি ডিজাইন আর নতুনত্বের পসরা সাজিয়ে ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরিতে নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত পরিশ্রম করছেন কারিগররা।

নারীদের উৎসবের পোশাক মানেই শাড়ি, আর সেই পছন্দের শীর্ষে সব সময় থাকে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। এবারের উৎসব ঘিরে বাজারে এসেছে হ্যান্ড পেইন্ট, কাঁথা স্টিচ, হাফসিল্ক, সুতি, তসর সিল্ক ও ডেমো সিল্কের চোখ ধাঁধানো সব ডিজাইন। সাধারণ মানুষের সামর্থ্য মাথায় রেখে ৪৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি তৈরি হচ্ছে।তাঁতপল্লীগুলোতে পুরুষদের পাশাপাশি সমানতালে কর্মযজ্ঞে মেতেছেন নারী শ্রমিকরাও।

ব্যস্ততা বাড়লেও কারিগরদের মনে রয়েছে চাপা কষ্ট। তাঁত শ্রমিকরা জানান, হাড়ভাঙা খাটুনি বাড়লেও সে তুলনায় মজুরি অনেক কম। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে আসায় আগের চেয়ে বিক্রি কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবুও আসন্ন দুই উৎসবে ভালো বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা ইতিমধ্যে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন টাঙ্গাইলের শোরুমগুলোতে।
টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক শিল্পের বর্তমান দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় বেচাকেনা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বড়ো উদ্বেগের বিষয় হলো, আগে যেখানে পাঁচ হাজার তাঁত ছিলো, বর্তমানে তা কমে মাত্র সাড়ে সাড়ে চারশতে দাঁড়িয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কারিগর ও ব্যবসায়ীদের আশা, শত অভাবের মধ্যেও এবারের ঈদ ও বৈশাখের রঙিন শাড়িতে মাতবেন সারা দেশের নারীরা, আর সেই আয়েই প্রাণ ফিরে পাবে টাঙ্গাইলের ঝিমিয়ে পড়া এই প্রাচীন শিল্প।
