নিখোঁজ হওয়ার ২২ বছর পর আবার পরিবারের কাছে ফিরে এলেন ফারজানা আক্তার (ছদ্মনাম) নামে এক নারী। বাড়ির ঠিকানা হারিয়ে এ ২২ বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করেন ফারজানা।
২২ বছর আগে অর্থাৎ ২০০০ সালে নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের দিনমনির হাট এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ঘুরতে রাস্তায় বের হন ১৪ বছর বয়সী ফারজানা। এক পর্যায়ে বাড়ির রাস্তা হারিয়ে ফেলেন তিনি। ঠিকমতো ঠিকানা বলতে না পারায় আর বাড়ি ফিরে আসতে পারেননি ফারজানা।
সোমবার (৪ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টার দিকে র্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের (কোম্পানী কমান্ডার) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শামীম হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ওই নারীকে তার ভাইয়ের হাতে তুলে দেন।
এর আগে একই দিন রাত ১১টার দিকে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১১ এর একটি অভিযানিক দল নোয়াখালীর সুধারাম থানার সোনাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ হওয়া ফারজানা আক্তারকে উদ্ধার করে।
পরে সোমবার দিবাগত রাতে র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী ক্যাম্পের (কোম্পানী কমান্ডার) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো.শামীম হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিকটিম ফারজানা আক্তার (ছদ্মনাম) ২২ বছর পূর্বে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার পর ভিকটিমের পরিবার তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে। ভিকটিমের পরিবার আশপাশের বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে জানতে পারে যে, তার বোন মারা গেছেন অথবা পাচারকারী লোকজন পাচার করেছে।
হঠাৎ কিছুদিন আগে ফারজানার ভাই মো. শহিদ উল্লাহর কাছে খবর আসে তার বোনের মতো চেহারা দেখতে এক নারী নোয়াখালীর সোনাপুর এলাকার একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করে।
গত শনিবার (২ এপ্রিল) ভিকটিমের ভাই মো.শহীদ উল্লাহ সুধারাম মডেল থানায় হাজির হয়ে একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন। এরপর ভিকটিমের ভাই রোববার ৪ এপ্রিল সাধারাণ ডাইরিসহ র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর ক্যাম্পে হাজির হয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন: তালিকা থেকে ৫০ লাখ মৃত ভোটার কর্তন
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের আলোকে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীতে ভিকটিমের আত্নীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভিকটিম ফারজানা আক্তারকে সুধারাম থানার সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে উদ্ধার করে।
ভিকটিমের ভাষ্যমতে জানা যায়, তিনি তার ঠিকানা বলতে না পারায় বাড়িতে ফিরে আসতে পারেননি। ঘটনাক্রমে এক ব্যক্তির মাধ্যমে গৃহপরিচারিকার কাজ নিয়ে এ যাবত রাজশাহী, চট্রগ্রাম ও নোয়াখালীতে ছিলেন তিনি। ভিকটিম ও তার বড় ভাই শহীদ উল্লাহকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুধারাম মডেল থানায় পাঠানো হয়।
একাত্তর/আরবিএস