শেরপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এলাকাবাসীর দু'দলের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে।
বুধবার (৬ এপ্রিল) সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে ডোবারচর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে গেছে, গত ৩ এপ্রিল একটি সমিতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার ডোবারচর বাজারের রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন লেবু ও চাঁন মিয়া মেম্বারের সাথে একই গ্রামের পণ্ডিত বাড়ি এলাকার মহির উদ্দিনের ছেলে আ. রাজ্জাক (৪০), আসাদ (৩৫) ও হাবিবের (২৫) বাকবিতণ্ডা ঘটে।
এরই জের ধরে বুধবার সকালে আ. রাজ্জাক, আসাদ, হাবিবসহ শতাধিক এলাকাবাসী লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চাঁন মিয়া ও আকরাম হোসেন লেবুর রড সিমেন্টর দোকান ও তার ভাস্তে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেনের কীটনাশক সারের দোকানে হামলা করেন।
এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এক পর্যায়ে আকরাম হোসেনের দোকান ভাংচুর এবং মোবারক হোসেনের দোকানে অগ্নিসংযোগ করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
এ ঘটনায় ডোবারচর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সেই সাথে আশরাফ চৌকিদারের ছেলে উত্তাল মিয়া (৫০), মৃত মকবুল মিয়ার ছেলে আ. মমিন (৭০), যদু মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর (২০), শাবিজলের ছেলে আ. রাজ্জাক (১৯), আ. মালেকের ছেলে ইমান আলী (২৭), মজনু মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৮) ও তার বড় ভাই শাবিজল (৪০) আহত হন। পরে আহতদের এলাকাবাসী উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আহাম্মদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেন।
আরও পড়ুন: গরু বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন ব্যবসায়ী
কামারেরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. হাবিবুর রহমান হাবিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দোকান ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোন দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একাত্তর/এসজে