সাফারি পার্কে অসুস্থ সিংহ নদীর মৃত্যু

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের অসুস্থ নারী সিংহ নদী মারা গেছে। দীর্ঘ দু'মাসে একাধিকবার বিশেষজ্ঞ টিম নিয়ে বোর্ড বসিয়েও সুস্থতার দিকে তাকে ফেরানো যায়নি।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) ভোরে চিকিৎসা চলমান অবস্থায় সিংহটি মারা গেছে বলে দুপুরে নিশ্চিত করেছেন পার্কের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম। 

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে রক্ষিত আবদ্ধ নারী সিংহ নদী গত ২ ফেব্রুয়ারি পুরুষ সিংহ সম্রাটের সঙ্গে মারামারি করে। এতে পুরুষ সিংহ বেশি আঘাত পায়। প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকের পরামর্শে তারা সুস্থ হয়ে ওঠে। 

কিন্তু ১৯ ফেব্রুয়ারি শারীরিক মিলনে গিয়ে সম্রাট-নদী আবারো মারামারিতে জড়িয়ে জখম হয়। সিংহ দুটিকে ভেটেরিনারি ডা. মোস্তাফিজুর রহমানের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হয়। 


সম্রাট সুস্থ হয়ে উঠলেও নদীর গলার নিচের জখম থেকে পানি ঝরছিল। তা সারাতে ২২ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি পার্কের বর্তমান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. হাতেম সাজ্জাত জুলকার নাইন চিকিৎসা দেন।

পার্কের তত্ত্বাবধায়ক আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং পার্কের ভেটেরিনারি কর্মকর্তাসহ পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মেডিকেল বোর্ড গঠন করে অসুস্থ নদীকে চিকিৎসা সেবা দেন। দিনদিন খাদ্যগ্রহণ কমে যাওয়া এবং মুখ থেকে লালা ঝরা কমেনি নদীর।

২৭ মার্চ থেকে একেবারে খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে নদী জিহ্বা বের করে রাখত এবং তার লালা ঝরার পরিমাণও বেড়ে যায়। তখন আবারও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং পার্কের ভেটেরিনারি কর্মকর্তাসহ চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড সিংহটিকে চিকিৎসা দিতে থাকেন।

এছাড়া রোগের কোনো উন্নতি না হয়ে নদী আরও দুর্বল হয়ে পড়ায় বোর্ডের পুরনো সিদ্ধান্তমতে চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হয়। ২৮ মার্চ তার রক্ত ও ক্ষতস্থানের নমুনা পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। 

১২ এপ্রিল পাওয়া রিপোর্টের ফলাফলে ক্ষতস্থান থেকে শরীরে ক্ষতিকর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করা হয় বলে জানান মাজহারুল ইসলাম। 


একাত্তর/এসজে