লিচুর গ্রাম মঙ্গলবাড়িয়া। দুইশ’ বছরের বেশি সময় ধরে লিচু চাষের ঐতিহ্য কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এই গ্রামে। তাই গ্রামটি এখন পরিচিত ‘লিচু গ্রাম’ হিসাবে।
সেখান লিচুর বাগান করে ভাগ্য পাল্টেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের মানুষের। এ বছর গ্রামটি থেকে ১০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির আশা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লিচুর ফলন বেশ ভালো। তাই যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই থোকা থোকা লিচু ঝুলছে কিশোরগঞ্জ পাকুন্দিয়ার মঙ্গলবাড়িয়ায়।
সড়কের দুপাশ থেকে শুরু করে বাড়ির উঠান, সামনের অংশ, পুকুরপাড় ও খেতের আইলসহ সব জায়গায় শুধু লিচু গাছ। গ্রামে ঢুকতেই গোলাপি রঙের মনকাড়া লিচু চোখে পড়ে।
চাষীরা জানান, গ্রামের পাঁচ থেকে ছয় হাজার লিচুগাছ আছে। তাদের লিচু বাগানেই বিক্রি হয়ে চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কেউ লিচু ভর্তি গাছ ও ডালও কিনে রাখেন।
লিচু বাগান-গাছ ভাঙাকে সামনে রেখে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে তাই ভিড় করছে দেশের দূর-দূরান্তের লোকজন। লিচু সংগ্রহের জন্য আসছে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ।
এবার ১০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির টার্গেট আছে কৃষি বিভাগের। চাষিদের মধ্যে স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসনও।
কথিত আছে, ২০০ বছর আগে এ গ্রামের চীন প্রবাসী এক ব্যক্তি প্রথমে সে দেশ থেকে এ জাতের লিচুচারা সংগ্রহ করে নিয়ে আসে।
কালক্রমে এমন অসাধারণ জাতের লিচু চাষ ও সুখ্যাতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর এ লিচুর জাতটিও মঙ্গলবাড়িয়া নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার এখন লিচু চাষের আয়কেই জীবিকা নির্বাহের এবং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছেন।
একাত্তর/এআর