ভোলার সাগর মোহনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় প্রায় এক লাখ মানুষের সেবায় ১৯৯৬ সালে তৈরি করা হয় মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের ১১টি পদের মধ্যে ৮টি পদই এখন শূণ্য।
এর মধ্যে গাইনী, অর্থপেডিকস, শিশু ও এনেসথেশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও চিকিৎসক নেই। এছাড়াও, নার্সের ২৫টি পদের মধ্যে ১৯টি পদ শূণ্য। প্যাথলজি বিভাগের পদসহ টেকনিক্যাল সব পদ শূণ্য।
২০১৮ সালে এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেও জনবলের এখনো অনুমোদন পায়নি। এমনকি ৩১ শয্যার জনবলও এই হাসপাতালে নেই। আর যেকারণে বন্ধ রয়েছে হাসপাতালটির অপারেশন বিভাগ।
বন্ধ থাকায় সিজারসহ জটিল কোন অপারেশন হয়না। জরুরি রোগীদের হয়না কোন চিকিৎসা । তাই বাধ্য হয়ে রোগীদের জেলা সদর বা অন্যকোন জেলায় যেতে হয়। এতে করে উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে যাওয়ার সময় মুমুর্ষ রোগীদের অনেক সময় পথেই মৃত্যু হয়।
বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসা রোগীরা ফিরছেন খালি হাতে। জরুরী প্রয়োজনেও চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবা পান না তারা। ভুক্তভোগীদের অনেকেই বলছেন, দিনকে দিন নানা ভোগান্তি আর জটিলতায় বিপর্যস্ত তারা।
এখানকার লোকেদের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালটি। অথচ এমন সংকটে তারাও নাজেহাল। চাইছেন, খুব দ্রুত হাসপাতালটির চিকিৎসক সংকটসহ আরও যেসব সমস্যা আছে তা নিরসনে কাজ উদ্যোগ নেয়া হোক।
এদিকে, চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যার কথা মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পপনা কর্মকর্তা ডা: তৈয়বুর রহমান স্বীকার করে বলেন, দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন তারা।
একাত্তর/ এনএ