মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হাত বোমার বিস্ফোরণসহ পাঁচটি বসতঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। আক্রান্ত হয় একটি মসজিদও। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা জেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুন) দুপুর থেকে শহরের সৈদারবালী এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পৌর এলাকার সৈদারবালী ও দুই নং শকুনি এলাকার কিশোরদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। কিছুদিন আগে সৈদারবালী এলাকার এক তরুণকে শকুনি এলাকায় মারধর করা হয়। কিছুদিন পরে ওই এলাকার এক তরুণ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হলে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়।
তারা জানান, শুক্রবার দুপুরে শকুনি এলাকার লোকজন হাসপাতালে তাকে দেখলে গেলে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে যোগ দেন বড়োরাও। সংঘর্ষে তিনজন টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় বেশ কয়েকটি হাত বোমা বিস্ফোরণসহ কয়েকটি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের কর্মকর্তা রিয়াদ মাহামুদ বলেন, আট থেকে ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন টেঁটাবিদ্ধ। তাদের ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভর্তি রয়েছে বেশ কয়েকজন। আহতদের প্রত্যেকের শরীরে দেশীয় অস্ত্রে গুরুতর জখম রয়েছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একাত্তর/এসি