সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীর পদ হারালেন সেই মুকিত

গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতির ব্যক্তিগত সহকারী পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে মুহিবুল হাসান মুকিতকে। মুকিতের পরিবারের সঙ্গে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর এই পদ হারালেন মুকিত। 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুকিতকে অব্যাহতির কথা জানান সংসদ সদস্য নিজেই।

এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে তিনি বলেন, সে আমার ব্যক্তিগত সহকারী নেই। তার কোনো বিষয়েই আমি আর কিছু জানি না। সঙ্গত কারণেই তার কোনো বিষয়েই আমি আর কথা বলতে চাচ্ছি না। সে আমার পিএস পরিচয় ব্যবহার করতে পারবে না। 

এদিকে মুকিতকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বহাল রাখার চেষ্টার গুঞ্জনকে গুজব বলে উল্লেখ করেছেন গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা যাচাই বিষয়ক তদন্ত কমিটির সদস্য সাইফুল আলম সাকা।

তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কাছে তদন্ত কমিটির আহবায়ক একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। সেটি কেন্দ্রেও প্রেরণ করা হয়েছে বলে আমি শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে সংশয়ের কোনো কারণ নেই। 

এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে গাইবান্ধা জেলার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে আমি জানি। এখনো দেখিনি সেটি। দেখার পরে এ বিষয়ে কথা বলতে পারবো। আর কেন্দ্রে এই প্রতিবেদন জমাও দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল আমিনুল ইসলাম নামে পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এক নেতা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তরে অভিযোগ করেন, মুহিবুল হাসান মুকিতের পরিবার জামায়াত সংশ্লিষ্ট এবং তার বাড়িতে শিবিরের মেস ছিলো। এই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা আওয়ামী লীগ। সেখান থেকে একে একে উঠে আসে মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য।

আরও পড়ুন: ২০ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, নিহত বেড়ে ৪৯

মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গঠিত এই কমিটির কাছে সাক্ষ্য প্রদান করেন ২৮ জন সাক্ষী। তাদের কেউই ‘মুকিতের পরিবার জামায়াত সংশ্লিষ্ট নয়’-এমন বক্তব্য দেননি। বরং উপজেলা আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদকের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন বেশ কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন সাক্ষীরা।

এদিকে নিজের বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ করতে গিয়ে অপর এক মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকিও দেন মুকিত। সর্বশেষ তার এই হুমকির ঘটনায় মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানায় পলাশবাড়ীর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

এদিকে জামায়াত পরিবারের সন্তান, মিথ্যা বলে নিজের বাবাকে মুক্তযোদ্ধা দাবি এবং সর্বশেষ একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি প্রদানের অভিযোগের রেশ শেষ হতে না হতেই আবারো অভিযোগের তীর মাহিবুল হাসান মুকিতের খালাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। তাদের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতাসহ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ভঙ্গের অভিযোগ করেছেন মো. গোলাম মোস্তফা সরকার নামের স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি।

লিখিত অভিযোগ পত্রে পলাশবাড়ী উপজেলার ৫ নং মহোদিপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি গোলাম মোস্তফা জানান, মহোদিপুর ইউনিয়ননের সভাপতি রিপন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন তারা দু'জনেই বিতর্কিত মুকিতের খালাতো ভাই। তারা সবাই ১৯৭০ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে তৎকালীন মুসলিম লীগ মনোনীত হারিকেন মার্কার প্রার্থী মৃত. আবদুল সামাদ মৌলভীর নাতি। আর সাধারণ সম্পাদক খোকনের পিতা মৃত. তৈয়বর রহমান সে-সময় পিচ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইউনিয়ন সভাপতি রিপন ধর্ষণ মামলার (জি.আর. ৩১/২০২০) আসামি ও খোকন মাদকের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।


একাত্তর/এসি