ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার সাংবাদিকের মুক্তি দাবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় রাঙামাটির সাংবাদিক ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার মুক্তির দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন করেছে বিভিন্নস্তরের মানুষ।

মঙ্গলবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় রাঙামাটির তবলছড়ি এলাকার বাসা থেকে ফজলে এলাহীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ‘রাঙ্গামাটি কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা’ -ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করেন।


স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকমে ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকার সাবেক নারী সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর মেয়ে নাজনিন আনোয়ার এই মামলা করেন।

চিনু বর্তমানে রাঙামাটি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। 

পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক ফজলে এলাহী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, কালের কণ্ঠ ও এনটিভির রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি।

মানববন্ধনে রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দের সভাপতিত্বে ও দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক হেফাজত সবুজের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি সৈকত রঞ্জত চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি প্রান্ত রনি, সাংবাদিক নির্মল বড়ুয়া, রাঙ্গামাটি কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ললিত সি চাকমা, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদ, রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা, কাউখালীর সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, লংগদু উপজেলা প্রেসক্লাব সদস্য আরমান খান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিক ফজলে এলাহীকে হয়রানি করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই মামলা করা হয়েছে। মামলা-হামলা করে কখনোই সাংবাদিকদের লেখা বন্ধ করা যায়নি৷ সাংবাদিকরা অনিয়মে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা রেখে যাবেন। এসময় বক্তারা ফজলে এলাহীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানান তারা।

ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তারের পর রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি কবির হোসেন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট আসার পর ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন বলেন, মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানি না। আদালত থেকে একটি ওয়ারেন্টের পরিপ্রেক্ষিতে ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: হাতিরঝিলে পুলিশ প্লাজার পাশ থেকে সাংবাদিকের লাশ উদ্ধার

ফজলে এলাহীর স্ত্রী সেলিনা সুমি বলেন, দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কলম কখনোই থামবে না। অন্যায় করে যারা ভাবে ক্ষমতা, পেশিশক্তি ও টাকার জোরে সবকিছুই সম্ভব, অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে ফেলা যায়, তাদের বিরুদ্ধে ফজলে এলাহীর কলম চলবেই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে, এই জনপদের সব মানুষের অধিকার, প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে একজন ফজলে এলাহী লড়াই করে গেছে।

তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দ্বারা মানুষকে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এই কালো আইন বাতিল করতে হবে।


একাত্তর/আরএ