রাঙামাটির বিরল প্রজাতির গোলাপি হাতি শাবকটির মৃত্যু হয়েছে। মা হাতিসহ হাতির একটি পাল পাহারা দেওয়ায় দু’দিন ধরে শাবকটির মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারছেন না বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
জেলার বরকল উপজেলার বরুনাছড়িতে চলতি বছরের জুন মাসে দেশের প্রথম ও একমাত্র গোলাপি হাতি শাবকটি দেখা গিয়েছিলো। সেসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কাচালংমুখ বনশুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ির আওতাধীন রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার বরুনাছড়ি গ্রামের লিটনের টিলা এলাকায় গোলাপী হাতি শাবকটি দেখা যায়। গোলাপী হাতি শাবকের আনুমানিক বয়স ছিলো ছয় মাস।
বাসসের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ভেসে আসার সময় হাতি শাবকের মৃতদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে গেলেও মৃতদেহের পেছনে সাঁতরে আসা মা হাতিসহ বন্য হাতির একটি দলের কারণে শাবকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সুবলং রেঞ্জের কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, কাপ্তাই হ্রদে বিরল গোলাপি রঙের হাতির শাবকটির মৃতদেহ ভাসছে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গেলেও হাতির শাবক উদ্ধারে আমরা এর কাছে যেতে পারছি না। কারণ, শাবকটির মাসহ বুনো হাতির একটি পাল সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সরিয়ে দিয়ে আমরা হাতিটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থলে যান।
তিনি বলেন, ধারনা করা হচ্ছে হাতি শাবকটি খাড়া পাহাড় থেকে নামার সময় পা পিছলে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে পড়ে যায়। সেখান থেকে উঠতে না পেরে তার মৃত্যু হয়েছে। আজ আবারও হাতি শাবকটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। এরপর ভেটেরিনারী সার্জন দিয়ে ময়নাতদন্তের পর হাতি শাবকের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুনে কাপ্তাই হ্রদ সাঁতরে পার হওয়ার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে প্রথমবারের মতো গোলাপি হাতির শাবকটি দেখা যায়। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা হয়।
তখন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, এটি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কখনো কখনো এমন অদ্ভুত রঙ হয় বিভিন্ন প্রাণীর। এটি মূলত হরমোনজনিত ইস্যু। হাতির জিনগত কোনো অস্বাভাবিকতার কারণে অনেক সময় হাতির গায়ের রঙে ভিন্নতা আসে। এই শাবকটির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
ভৈরবে ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ সদস্য নিহত