চমেকে স্বজনের খোঁজে এখনো ছবি নিয়ে ঘুরছেন অনেকে

পাঁচদিন পার হলেও পরিচয় মেলেনি সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুনে পুড়ে নিহতদের। হাসপাতালে মর্গে রাখা আছে ১৭ জনের মৃতদেহ। 

নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ নিতে ছবি নিয়ে অনেকেই ভিড় করছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চত্বরে। কেউ কেউ ব্যানার নিয়েও জানাচ্ছেন স্বজনের খোঁজ দেয়ার দাবি।

বুধবার সকালে চমেকের সামনে গেলো, ভাইয়ের পরিচয়পত্র কার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মামুন হোসেন। এসেছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে। 

তার ভাই বিস্ফোরণের পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন ফায়ার ফাইটার শফিউল ইসলাম। মামুন জানান, শফিউলের স্ত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামীর নিখোঁজ সংবাদে এখন তিনি অসুস্থ। 

মামুন আরও জানান, ছেলের শোকে মা শাহনাজ পারভীন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চারদিন ধরে কিছুই মুখে তোলেননি তিনি। বেশিরভাগ সময় থাকছেন অচেতন।

প্রায় একই গল্প পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রহিমা আক্তারের। তার স্বামী আবদুল মনির হোসেন ছিলেন বিএম ডিপোর ক্রেন অপারেটর। সেখানে বিস্ফোরণের পর থেকেই নিখোঁজ তিনি। 

মাত্র সাত মাসের সংসার মনির-রহিমার। এর মধ্যেই সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডিতে এলোমেলো তাদের সংসার। বিয়ের সাত মাসের মাথায় নিখোঁজ স্বামীর জন্য রহিমার আহাজারি তাই থামছে না।

একইভাবে ডিপো শ্রমিক আতিকুলের খোঁজে হাতিয়া থেকে এসেছেন তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম। তিনিও কোন কুল কিনারা করতে পারেননি। 

প্রিয়জনদের ফিরে পেতে এ রকম প্রতিদিনই হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনরা। তাদের আশা- প্রিয়জনের মৃতদেহের শেষকৃত্য করার। 

এখন শনাক্ত না হওয়া ১৭ জনের মৃতদেহ রাখা আছে হাসপাতালে মর্গে। তাদের চিহ্নিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন সিআইডি'র ফরেনসিক বিভাগ। 

এদিকে, হাসপাতালে এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৪ জন। গেলো শুক্রবার সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন ও বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। 



একাত্তর/এসজে