সুবর্ণচরে ইউপি সদস্যের ঘর থেকে চুরির মালামাল উদ্ধার

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় চরজুবিলী ইউনিয়ন পরিষদ ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্যের (মেম্বার) ঘর থেকে চুরি হওয়া ১০ বস্তা সয়াবিন, বাদাম ও মুগডাল উদ্ধার করেছে চরজব্বার থানা পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করেনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাত ৯ টায় উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের হারিছ চৌধুরীর বাজারের পাশে সেলিম মেম্বারের বাড়ি থেকে ১০ বস্তা সয়াবিন-বাদাম-মুগডাল উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, গত রোববার (২৬ জুন) স্থানীয় হারিছ চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী কেফায়েত উল্লাহর দোকান থেকে ২৬ বস্তা সয়াবিন, বাদাম ও মুগডাল চুরি হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী কেফায়েত উল্লাহ চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি তদন্তের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চরজুবলি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সেলিমের ঘর থেকে চুরি হওয়া সয়াবিন, বাদাম ও মুগডালের ১০ বস্তা উদ্ধার করেন।

পুলিশ জানায়, যেই ঘর থেকে সয়াবিন, বাদাম ও মুগডালের বস্তাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ঘরে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সেলিম দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করেন না। এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং সেখানে তার ভাগিনা পারভেজ বসবাস করেন।

তবে স্থানীয় হারিছ চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সেলিমের যোগসাজশেই এগুলো চুরি করা হয় এবং তা সেখানে রাখা হয়। এর আগেও সেলিম মেম্বার একাধিক চুরির সাথে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তরমুজের যৌথ ব্যবসা করতে গিয়ে চট্টগ্রাম জেলার এক ব্যবসায়ীর আট লক্ষ টাকা মেরে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সেলিমের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে থানায় একটি অভিযোগ চলমান রয়েছে।

ব্যবসায়ী কেফায়েত উল্লাহ জানান, রোববার রাতের কোন এক সময় তার গুদামের দরজা ভেঙ্গে ১০ বস্তা সয়াবিন, পাঁচ বস্তা মুগ ডাল, পাঁচ বস্তা বাদাম ও ৬ বস্তা খেসারির ডাল নিয়ে যায় চোরেরা। এর আগেও মাঝেমধ্যে দুই-এক বস্তা খোয়া যেত। এজন্য তিনি কাউকে দায়ী করতে পারতেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. সেলিম বলেন, পারিবারিক কারণে আমি দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ভাড়া বাসায় থাকি। পুরানো বাড়িতে আমার যাওয়া-আসা তেমন হয় না। আমার ভাগিনা পারভেজ ঐ বাড়িতে থাকে। সে বিভিন্ন চুরি-চামারির সাথে জড়িত। এর আগেও চুরির মামলায় তিন মাস জেল খেটেছে ভাগিনা। তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে আমি ঐ বাড়ি ছেড়ে চলে আসি এবং তাকে ভাগিনা পরিচয় দিতেও লজ্জাবোধ করি। 

তিনি দাবি করেন, আমি দুইবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেম্বার নির্বাচিত হয়েছি, সততার সহিত ইউপি সদস্যের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।  একটি কুচক্রী মহল আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অযথা আমার নামে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকৃত চোরকে ধরে শাস্তি দিলেই মূল ঘটনা বের হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি চাই সঠিক তদন্ত পূর্বক দোষীর শাস্তি হোক।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবপ্রিয় দাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় রাতে ব্যবসায়ী কেফায়েত উল্যাহ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। 


একাত্তর/জো