কুয়াকাটা সৈকতের জিড়ো পয়েন্ট এলাকায় সমুদ্রে নামতে কোন সড়ক নেই। আর এই স্থানটিতে যেকোন দুর্ঘটনা ঠেকাতে ফেলে রাখা হয়েছে জিওব্যাগ। কিন্তু তাতেও সুরক্ষা নেই, কেননা এই জিওব্যাগে পা ফসকে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা।
আবার এই জিরো পয়েন্ট এলাকাটিতেই অনেক পর্যটক সমুদ্রে নেমে নিখোঁজ হন আবার কেউ ভাটার টানে ভেসে যান গভীর সমুদ্রে।
এ কারণে প্রতিবছর সৈকতে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে অনবরত। এছাড়া কুয়াকাটায় ভ্রমণে এসে পর্যটকরা স্থানীয় ও বাইরের পর্যটকদের হাতে হয়রানী ও টাকা এবং মোবাইল হারিয়ে ফেলে। কেউ হন নাজেহাল।
তাই পর্যটকরা যেন কুয়াকাটায় ভ্রমণে এসে কোন হয়রানীর শিকার না হন এবং যেকোন দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে ইতোমধ্যে কুয়াকাটা পৌর এলাকায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ৩৪টি ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। আর এই উদ্যোগের কারণে নিরাপত্তায় এসেছে পৌরসভার পাঁচ কিলোমিটার এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
এদিকে, পৌর কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে দারুণ খুশি পর্যটকরা। তারা বলছেন, কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট সৈকতে ট্যুরিষ্ট পুলিশের টহলের সাথে তাদের সচেতনতামূলক মাইকিং শুনে তারা বুঝতে পারছেন কোথায় গেলে তারা সুরক্ষিত। আর সিসিটিভি বসানোর কারণে এখন তারা পুরোটাই নিরাপদ মনে করছেন।
পর্যটকরা বলছেন, এর আগে রাতে
সৈকতে নামতে ভয় পেতেন তারা। এখন আর তাদের সৈকতে নামতে কিংবা সড়কে হাঁটতে কোন
সমস্যা হবে না। এতে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত থাকবে নারী পর্যটকরা।
কুয়াকাটা পৌরসভা মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলছেন, পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে এবার ঈদের ছুটিতে এখানে পর্যটকের সমাগম বেড়েছে দশ গুণ। তাই কুয়াকাটা ভ্রমণে এসে পর্যটকরা যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে তার কারণেই সিসিটিভির এমন উদ্যোগ।
কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ আবুল কালাম আজাদ বলছেন, এই এলাকাটিতে গত এক যুগে একাধিক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করেছেন তারা। তবে এবার সিসিটিভি বসানোর কারণে পর্যটকরা নিরাপদ থাকতে পারবেন বলে মনে করছেন তিনি।
ঈদুল আযহার ছুটিতে কুয়াকাটায় এবার রেকর্ড পর্যটকের সমাগম। আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত কুয়াকাটার দেড়শ হোটেল- মোটেলের শতভাগ সিট বুকিং।
একাত্তর/ এনএ