ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার জারুইলতলা গ্রামে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) মৃত্যুবরণ করেন সুমা আক্তার।
এরপর জিআরপি তার মরদেহ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঠিকানাহীন অজ্ঞাত মরদেহ হিসেবে তিনদিন পড়েছিল মর্গে।
অবশেষে শনিবার (২৩ জুলাই) তার স্বামী সোহাগ ও ভাসুর হাসান, শাশুড়ি হাসিনা বেগমসহ স্বজনরা সদর হাসপাতালে এসে মরদেহ সনাক্ত করে।
জানা যায়, তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা ইউনিয়নের খানখাটির গ্রামে।
তবে, নিখোঁজ স্বজনের মরদেহের সন্ধান পেয়েও হাসপাতালের লাশঘরে মরদেহ ফেলেই চলে যান তারা। তারা জানান, মরদেহ পরিবহন ও দাফন-কাফনের ব্যয় মেটানোর সামর্থ্য নেই তাদের।
আরও পড়ুন: প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, নিহত তিন
তাই পরিচয় মিললেও শেষমেশ ঠাঁই হলো বেওয়ারিশ কবরস্থানে। সামাজিক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর শনিবার (২৩ জুলাই) রাতে জানাজা শেষে বেওয়ারিশ হিসেবেই মরদেহ মেড্ডা শ্মশানঘাট এলাকায় দাফন করেন।
বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা আজহার উদ্দিন জানান, অর্থনৈতিক সামর্থ্য না থাকায় স্বজনরা মরদেহ ফেলে চলে যান। তাই তদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় তাকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর থানার ওসি (তদন্ত) সোহরাব হোসেন জানান, বাতিঘর দীর্ঘদিন ধরেই বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করে আসছে। শুধু বেওয়ারিশ নয়, অনেকে সময় সামর্থ্যহীন অনেকে স্বজনের মরদেহের দাফনের ব্যয় নির্বাহে অক্ষম হলে তারা সেসব মরদেহেরও দাফন সম্পন্ন করেন।
ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে নিহত সুমা আক্তারের মরদেহটিও তারা গত রাতে দাফন করেছেন জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তারা এ পর্যন্ত ৫৭টি এমন মরদেহের দাফন সম্পন্ন করেছে।
একাত্তর/জো