পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মেয়ে মোছা. তানিয়া খাতুন। হঠাৎ দেখে মনে হতে পারে সাত-আট বছরের শিশু তিনি। অথচ জন্মসনদ বলছে, তার বর্তমান বয়স ১৯ বছর।
অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী তানিয়া পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু অর্থাভাব আর শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতায় ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে সে স্বপ্ন।
উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর তাজুল ইসলাম ও নাছিমা খাতুন দম্পতির মেয়ে তানিয়া খাতুন। দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে তানিয়া বড়।
সমাজের আর দশটা শিশুর মতোই স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করেন তানিয়া। কিন্তু পরবর্তীতে বয়স অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি তার শারীরিক গঠন। দিন যত গড়িয়েছে ততই দুশ্চিন্তা জেঁকে বসেছে বাবা-মায়ের মনে। তানিয়াকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করিয়েও সুফল পাননি তারা।
তবে, তানিয়ার প্রবল ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মেনেছে তার শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা। সমাজের বাঁকা চোখ ও কটু কথা উপেক্ষা করে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষা জীবন। মেধার স্বাক্ষর রেখে ২০১৯ সালে বেরুয়ান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০২১ সালে বেরুয়ান মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি আটঘরিয়া সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় তানিয়া জানতে পারেন তার শারীরিক সমস্যার বিষয়টি। তারপর থেকে সমাজের মানুষের নানা কথা সহ্য করে চলেছেন তিনি।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সালেহ মুহাম্মদ আলী মনে করেন, আধুনিক চিকিৎসায় অনেক প্রতিবন্ধকতা থেকে তানিয়াকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আসা সম্ভব।
এখন তানিয়ার স্বপ্ন পূরণে দরকার সুচিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতা। এমন খবর প্রকাশে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত।
আরও পড়ুন: সোনাকান্ত বিলে গোলাপি আভা, দল মেলেছে পদ্ম
তানিয়ার বাবা-মা বলেন, মেয়েকে নিয়ে সবসময় সবার কাছে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন তারা। আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় ভেঙ্গে গেছে তানিয়ার আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার শিক্ষাজীবন। এ পরিস্থিতিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তানিয়ার পরিবার ও প্রতিবেশিরা।
আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাকসুদা আক্তার মাসু বলেন, তানিয়া ও তার পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। তার যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা করানো যেতো তাহলে এমনটা হতোনা। তবে মেয়েটি শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও মানসিকভাবে বেশ সবল। দরিদ্র পরিবারটির জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
একাত্তর/এসজে