নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সালফিউরিক এসিড তৈরির কারখানার বিষাক্ত গ্যাসে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ২০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, চাঁদার টাকা না পেয়ে একটি মহল এমন মিথ্যাচার করেছে।
রোববার (৮ আগস্ট) উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের বানিয়াদি, বলাইনগর, ফরিদ আলীর টেক, মঙ্গলখালী আর মকিমনগর এলাকার লোকজন অসুস্থ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এসিড তৈরির ওই প্রতিষ্ঠানের নাম ওয়াটা কেমিক্যালস। প্রতিষ্ঠানটির কারখানা ওই এলাকা ঘেঁষে অবস্থিত।
স্থানীয়দের দাবি, কারখানার আশপাশের গ্রামগুলোর শতাধিক মানুষ কারখানার নির্গত গ্যাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন। কেউ কেউ মারাও গেছেন। চাষাবাদ আর গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি মারা গেছে গবাদি পশুও।
ওয়াটা কেমিক্যালসের মহাব্যবস্থাপক মো. আবু তাহের ভুইয়া বলেন, তাদের কারখানায় উৎপাদিত সালফিউরিক এসিড আর অ্যালুমিনিয়াম সালফেট (ফিটকিরি) পানি বিশুদ্ধ করণে ঢাকা ও চট্রগ্রাম ওয়াসাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সার কারখানাসহ গার্মেন্টস সেক্টরে ব্যবহার করা হয়। দেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে যৌথ মালিকানার সবচেয়ে বড়ো কারখানা এই ওয়াটা কেমিক্যাল।
তিনি জানান, এখানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ টনের অধিক সালফিউরিক এসিড ও ১০ থেকে ১৫ টন অ্যালুমিনিয়াম সালফেট (ফিটকিরি) উৎপাদন হয়। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য মুড়াপাড়া এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল অনেকদিন যাবত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লোকজনদের মারধর, হামলা হুমকি দিয়ে আসছে।
তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, কারখানার নতুন স্থাপনা নির্মাণের কারণে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন মহিলালীগ নেত্রী মাসুদা প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে গত রোববার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এ ব্যাপারে পুলিশকে জানানো হলে তারা গ্যাসে আক্রান্তের নাটক সাজায় তারা।
কারখানার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, তারা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হলেই মারধরের শিকার হন। কয়েকদিন পরপরই প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়।
তাদের দাবি, সম্পূর্ণ আধুনিক মেশিনে উৎপাদিত হয় তাদের পণ্য। এখানে গ্যাস নির্গত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারখানার ভয়েল পানির জলীয় বাস্পকে গ্যাস মনে করে তারা এ ধরনের নাটকের সুযোগ নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: মাঝ নদীতে লঞ্চ-বাল্কহেড সংঘর্ষ, দুই শ্রমিক নিখোঁজ
তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি বাইরের লোক গ্যাস আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়, তাহলে ভেতরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা মাদরাসার ৩০০ শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন সুস্থ রয়েছে কীভাবে। অথচ কারখানার ভেতরেই সবুজ গাছপালা ও গবাদি পশু পালন করা হচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান বলেন, এলাকাবাসী ও কারখানা কর্তৃপক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসী এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ উভয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে কারও বিপক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একাত্তর/এসি