৬৭ বছর বয়সে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন শেরপুরের আবুল কালাম আজাদ। ১৮ বছর পর দেশে ফিরে আবারো শুরু করেন লেখাপড়া।
শুধু তাই নয় তিরি গান, কবিতা, ছড়া ও উপন্যাস লিখেছেন প্রায় আট হাজার। এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকার মানুষ। স্বজনরাও দিচ্ছেন সব রকম সহযোগিতা।
দাম্পত্য জীবনে তিন ছেলের বাবা তিনি। সবাই প্রতিষ্ঠিত। ঠিক তখন প্রবাস থেকে বাড়ি ফিরে সাংসারিক কাজের ফাঁকে শুরু করেন লেখালেখি।
সময় মতোই এসএসসি দিতে চেয়েছিলেন আবুল কালাম। ১৯৭৭ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীও ছিলেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার লংগরপাড়া গ্রামের এই বাসিন্দা।
কিন্তু অভাবের কারণে দেয়া হয়নি সেই পরীক্ষা। ভাগ্য বদলে চলে আসেন ঢাকায়। রাজধানীতে ২২টি বছর কাটিয়ে তিনি চাকরির জন্য চলে যান সৌদি আরবে।
১৮ বছর পর দেশে ফিরে আবারো শুরু করেন লেখাপড়া। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হন বকসীগঞ্জ চন্দ্রাবাজ রাশিদা বেগম হাই স্কুলে। সেখান থেকেই দিচ্ছেন এবার এসএসসি পরীক্ষা।
আজাদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন তিনি শিক্ষিত হবেন। এ কারণে শেষ বয়সে ছেলেদের সহযোগিতায় শুরু করেন পড়ালেখা।
শুধু লেখাপড়াই নয়, আবুল কালাম আজাদ গান, কবিতা, ছড়া ও উপন্যাস লিখেছেন প্রায় আট হাজার। আর এগুলো সংরক্ষণের জন্য ১৭টি বই আকারে বাঁধাইও করেছেন।
এত বছর পরেও শুধুমাত্র মনের জোরে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন আজাদ। আর এতে সব রকম সহযোগিতা করছেন স্বজনরা।
ছেলেরা বলেন, বাবা সংসার জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। ইচ্ছে থাকার পরও পড়াশোনা করতে পারেননি। শেষ বয়সে তার চাওয়া পূরণ করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি।
গ্রামে তিনি কবি কালাম নামে অধিক পরিচিত। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েই ২৭টি কবিতা লিখেছি।
এছাড়া বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫টি কবিতা লেখা হয়েছে। এ কবিতাগুলো যে কোনো মাধ্যমেই হোক প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছানোর সুযোগ চাই।
আরও পড়ুন: জেলেদের জালে ধরা পড়লো দুটি সেইল ফিস
এলাকার মানুষ বলছেন, ইচ্ছার কাছে বয়স হার মেনেছে। আর এলাকার জনপ্রতিনিধি বলছেন, এই বয়সে এমন উদ্যোগ অন্যদেরও লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়বে।
আজাদের বড় ছেলে কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক, মেজো ছেলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরি করেন, আর ছোট ছেলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন।
একাত্তর/এসজে