একটি মৃত কুকুর মাটিচাপা দেওয়া নিয়ে তুলকালাম ঘটেছে। এসেছে পুলিশ, ফোন গেছে জরুরি সেবা ৯৯৯ এ-ও। এখানেই শেষ নয়, তোলা হয়েছে সম্পত্তি গ্রাসের পায়তারায় ‘কালাযাদু’র অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন পড়েছে থানাতেও।
ঘটনাটি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার শেখেরকুড়া গ্রামের।
জানা যায়, উপজেলার শেখেরকুড়া গ্রামের আব্দুল খালেক ও আব্দুস সাত্তার পরস্পর সহোদর। বড়ো ভাই সাত্তারের সঙ্গে ছোট ভাই খালেক ও অন্য ছোট ভাইদের জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ দীর্ঘদিনের। বর্তমানে ছোট ভাই খালেক ঢাকায় থাকেন। ফলে তার বসতবাড়ি পতিত পড়ে থাকে।
শুক্রবার খালেকের বাড়িতে তার বোন লাকড়ি কুড়াতে এসে পরিত্যক্ত মাটির ঘরের বারান্দার সামনে কবরের মতো মাটি ভরাট দেখতে পান। এ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে খবর দেওয়া হয় ঢাকায় বসবাসকারী খালেককে। খবর পেয়ে খালেক ও পরিবারের লোকজন বাড়ি আসে। কবরের রহস্য নিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে প্রতিবেশী ও বড়ো ভাই সাত্তার মৃত কুকুর মাটিচাপা করেছেন বলে জানান। এর পরই শুরু হয় তুলকলাম।
জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করে পুলিশ ডেকে খোঁড়া হয় কবরের মতো ওই জায়গা। বের করা হয় পুরনো-ফেলনা কাপড় ও জাল দিয়ে পেচানো কুকুরের অর্ধগলিত মরদেহ।
এসময় অভিযোগ তোলা হয়, ছোট ভাই খালেককে মেরে ফেলতে বড়ো ভাই সাত্তার কুকুর মেরে পুঁতে রেখে ‘কালাযাদু’ করেছেন। এ নিয়ে রীতিমতো পারিবারিক ঝগড়া বাঁধে। শুরু হয় তুলকালাম। পুলিশ ছাড়াও গণমাধ্যমকর্মী এবং শতশত মানুষ ভিড় জমান ওই বাড়িতে।
এদিকে, ‘কালাযাদু’ করা হয়েছে বলে সন্দেহ করায় পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদের ফলে নিজের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে বড়ো ভাই সাত্তারের বিরুদ্ধে নালিতাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ছোট ভাই খালেক।
আরও পড়ুন: হানিমুনে এসে স্বামীকে পিটিয়ে অন্যের সঙ্গে পালালেন নববধূ
তবে, বড়ো ভাই সাত্তার ‘কালাযাদু’র অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ছোট ভাইয়ের বারান্দায় মরা কুকুর পঁচে দুর্ঘন্ধ ছড়ানোয় তিনি বারান্দার সামনেই তা পুঁঁতে রাখেন।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চুলার পাশে মাটিচাপা দেয়া কুকুরটি অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা করেছি। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একাত্তর/এসি