ভোলায় চার দিন ধরে অবরুদ্ধ সাংবাদিকের পরিবার

ভোলায় বাড়ির চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়ে এক সাংবাদিক ও শিক্ষক পরিবারকে চার দিন ধরে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার পুলিশ গিয়ে চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেয়ার নির্দেশ দিলেও কাজ হয়নি। ভোলা জেলা শহরের গাজীপুর রোডে সংগঠিত এমন অমানবিক, অসামাজিক ও সভ্যতা বিবর্জিত কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাংবাদিকসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ। 

রোববার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়ান্টিফোরের সাংবাদিক এবং কলেজ শিক্ষক জুন্নু রায়হানসহ তার পরিবার গত চার দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। এতে করে সাংবাদিক জুন্নু রায়হান ও তার স্ত্রী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়য়ের প্রধান শিক্ষিকা তার কর্মস্থালেও যেতে পারছেন না। এক ধরনের গৃহবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। 

পরিস্থিতি এমন যে, গত বৃহস্পতিবার সকালে তাদের একমাত্র পুত্র ও চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র স্কুল থেকে ফিরে বাড়ির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর ঘরে ডুকতে পারেনি। পরে নিরুপায় হয়ে গত চার দিন ধরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছে ওই শিশুটি।

অভিযোগ রয়েছে, তার বাসার প্রায় ৩৩ বছরের চলাচলরে রাস্তা পাশ্ববর্তী প্রতিপক্ষরা ইট রেখে বন্ধ করে দেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি  হয়েছে। এ ব্যাপারে ভোলা থানা পুলিশ গিয়ে হাটাচলার ওই রাস্তা উন্মুক্ত করতে নিদের্শ দিলেও তা মানা হয়নি। 


সাংবাদিক ও সহকারী অধ্যাপক জুন্নু রায়হান জানান, তার প্রতিবেশি মোকাম্মেল হক ঝন্টুর বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ১৯৮৭ সালে ৭ শতাংশ জমি কিনেন তার বাবা। এরপর প্রায় ৩৩ বছর ধরে নির্বিঘ্নে বসবাস করছেন। এমনকি বাসার সামনে দিয়ে চলাচলরে পথ যৌথভাবে সকলেই ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু ২০২০ সালে ঝন্টু, পিংকু, শিরিন গং তাদের পৈতৃক জমি ভাগ করার সময় বাড়ির এজমালি পথ রাখেনি। 

এজমালি বা যৌথ পথ রাখার জন্য জুন্নু রায়হান ওই সময় ভোলা পৌর সভার শালিস বোর্ডের সভাপতি ও কাউন্সিলর শাহে আলমকে অনুরোধ করেন। তিনি চেষ্টাও করেন। কিন্তু ঝন্টু গং এজমালি পথ রাখতে রাজি হননি। পরে জুন্নু রায়হানের বাড়ির মধ্য দিয়ে ৮ ফুটের একটি পথ নিতে চায়। এতে করে জুন্নু রায়হানের বাড়ির এক শতাংশ জমি চলে যাবে। ওই প্রস্তাবে জুন্নু রায়হান রাজি হয়নি। পরে পৌরসভার প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন লিংকনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক যাতায়াতের জন্য চার ফুটের পথ রেখে অর্থাৎ প্রায় আধা শতাংশ জমি ছেড়ে দিয়ে জুন্নু রায়হান তার বাড়ির বাউন্ডারি দেওয়াল তোলেন। 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঝন্টু গং যাতায়াতের পথে দেওয়াল তুলে তাকে প্রথম অবরুদ্ধ করে এবং আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন। দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর গত প্রায় ৩ মাস আগে পৌর মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান নিজে উপস্থিত থেকে ওই দেওয়াল ভাঙার ব্যবস্থা করে সকলের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেন। কিন্তু গত ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আবার ওই চলাচলের রাস্তায় ইট স্তুপ করে রেখে পথ আটকে দেয়া হয়। 

এদিকে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে সেখানে যাতে কাজ করতে না পারে সেজন্য ভোলা এডিএম কোর্টে আবেদন করা হয়। আদালত পুলিশকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনাসহ ইট সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেখানে ইটের স্তুপ না সরিয়ে পথ বন্ধ করে রেখেছে। 

এদিকে ঝুন্টু বলেছেন, আমাদের জমি দিয়ে অন্য কাউকে হাঁটতে দিবো না। আমাদের পথ আমরা বন্ধ করেছি। আমরা জুন্নু রায়হানদেরকে ৮ ফুটের রাস্তার জমি ছাড়তে বেলেছি। সে চার ফুট ছাড়ছে। এতে রাস্তা হয় না। সে ৮ ফুট না ছাড়লে আমাদের জমি দিয়ে তাকে কোনো পথ দেয়া হবে না।

আরও পড়ুন: জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দেবে ব্রুনাই

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, জুন্নু রায়হানরা ঝন্টুদের কাছ থেকে জমি কিনেছে। যাতায়াতের পথও ঝন্টুরা দিবে। সে ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ জমি কেনার ৩৫ বছর পর ঝন্টুদের বাড়ির জন্য জুন্নুরা কেন ১ শতাং জমি কেন ছাড়বে। এটা গায়ের জোরে করতে চায়। 

অপরদিকে ঝন্টুর ছোট বোন রুমা জানান, তার পৈত্রিক জমি ৫ শতাংশ পাওয়ার কথা থাকেলেও তাকে দেয়া হয়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। তার প্রাপ্ত জমি ভাই বোন কেউ বুঝিয়ে দেয়নি। তার পুরো জমি তাকে বুঝিয়ে দিলে চলাচলের জমি কতোটুকু ছাড়বে তখন সিদ্ধান্ত নিবেন। 

এ ব্যাপারে ভোলা মডেল থানার ওসি শাহিন ফকির জানান, আদালতের নির্দেশ অনুসারে পুলিশ  ১৪৪/১৪৫ জারি করছে। শান্তিশৃঙ্খলা জন্য নোটিশ প্রদান করেছি। কোর্টের দিক নির্দেশনার বাইরে আমাদের কিছু করার নেই।


একাত্তর/আরবিএস